Dhaka , Thursday, 26 February 2026
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ মালয়েশিয়ায় ধর্মঘট করায় ১৭২ বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরিচ্যুত

জীবননগরে সাথী ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এক খরচে দুই ধরনের ফসল চাষ করে বাড়তি আয়ের সুবিধা পাচ্ছেন তারা। যার কারণে এ উপজেলায় সাথী ফসল চাষে চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। সাথী ফসল চাষ করে একই জমিতে দুই ধরনের ফসল পেয়ে খুশি তারা।

 

জীবননগর উপজেলার উথলী, মনোহরপুর, আন্দুলবাড়িয়া, কাশিপুর, রায়পুর, হাসাদাহ, বাঁকা ও সীমান্ত এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে সাথী ফসলের চাষ দেখা গেছে। আখ, কলা, পেয়ারা, ড্রাগন, মাল্টা, পেঁপে ইত্যাদি চাষের সঙ্গে বাঁধাকপি, ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া, মুলা, গাজর, বেগুন, ধনিয়া, বরবটি, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন, লালশাক, পালনশাকসহ নানান শীতকালীন সবজি ও ডালজাতীয় ফসল চাষ করা হয়েছে। সাধারণত স্বল্পমেয়াদী ফসলগুলো সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়। একই জমিতে একাধিক ফসল বাজারজাত করতে পেরে খুশি চাষিরা। একই সাথে বাড়তি আয়ের সুবিধা পাওয়ায় উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সাথী ফসল চাষ।

 

জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের চাষি আব্দুল মালেক বলেন, “৩ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে ১ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছি। বাকি জমিতে ফুলকপি ও বেগুন চাষ করেছি। পেয়ারা গাছে যে রাসায়নিক সার-কীটনাশক ও সেচ দেওয়া হয়, সেটাতেই সাথী ফসল চাষ হয়ে যায়। সাথী ফসলের জন্য আলাদা খরচ করতে হয় না। ইতিমধ্যেই বেগুন বিক্রি করা শুরু হয়ে গেছে। সাথী ফসল থেকে বাড়তি টাকাটা বোনাস হিসেবে পাবো।”

 

হাসাদাহ গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, “কোন ফসল চাষ করলে লাভ হবে আর কোনটিতে লোকসান হবে তা বলা মুশকিল। আমার মাল্টা বাগানের সারির মধ্যে বেড পদ্ধতিতে পেঁয়াজ, রসুন ও ধনিয়া পাতা চাষ করেছি। একটি ফসলে লোকসান হলে আরেকটি ফসলে ভালো দাম পাওয়া যায়। যার কারণে সাথী ফসল চাষ করা হয়। সাথী ফসল চাষ করলে কখনো লোকসান হয় না।”

 

শামিম হোসাইন নামের আরেক চাষি বলেন, “২ বিঘা জমির আখের মধ্যে সরিষা ও মসুরি চাষ করেছি। অন্য একটি জমিতে আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে মাসকলায়ের বীজ বুনেছি। আখ দীর্ঘমেয়াদি ফসল। আখের চারা বের হওয়ার পর সাথী ফসল তুলে নেওয়া হয়। আখ চাষে জমিতে যে পরিমাণ কেরুর জৈব সার দেওয়া হয়েছে, তাতেই সাথী ফসল উঠে যাবে। সাথী ফসল চাষ করে বাড়তি যে আয়ের সুযোগ পাওয়া যায়, সেটা দিয়ে জমি লিজের টাকা ও আখের উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নেওয়া যায়। সাথী ফসল চাষ করলে অন্যান্য ফসলে তেমন ক্ষতি হয় না।”

 

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, “বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকায় এ উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে সাথী ফসল চাষ করার আগ্রহ বেড়েছে। সাথী ফসল চাষ করলে ফসলে রোগবালাই কম হয় এবং একই জমিতে একই খরচে একাধিক ফসল পাওয়া যায়। সাথী ফসলের যে কান্ড ও পাতা মাটিতে পড়ে, সেটা উৎকৃষ্ট মানের সবুজ সার তৈরি করে। সাথী ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির

জীবননগরে সাথী ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

আপডেট টাইম : 04:16:16 pm, Tuesday, 11 November 2025

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এক খরচে দুই ধরনের ফসল চাষ করে বাড়তি আয়ের সুবিধা পাচ্ছেন তারা। যার কারণে এ উপজেলায় সাথী ফসল চাষে চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। সাথী ফসল চাষ করে একই জমিতে দুই ধরনের ফসল পেয়ে খুশি তারা।

 

জীবননগর উপজেলার উথলী, মনোহরপুর, আন্দুলবাড়িয়া, কাশিপুর, রায়পুর, হাসাদাহ, বাঁকা ও সীমান্ত এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে সাথী ফসলের চাষ দেখা গেছে। আখ, কলা, পেয়ারা, ড্রাগন, মাল্টা, পেঁপে ইত্যাদি চাষের সঙ্গে বাঁধাকপি, ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া, মুলা, গাজর, বেগুন, ধনিয়া, বরবটি, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন, লালশাক, পালনশাকসহ নানান শীতকালীন সবজি ও ডালজাতীয় ফসল চাষ করা হয়েছে। সাধারণত স্বল্পমেয়াদী ফসলগুলো সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়। একই জমিতে একাধিক ফসল বাজারজাত করতে পেরে খুশি চাষিরা। একই সাথে বাড়তি আয়ের সুবিধা পাওয়ায় উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সাথী ফসল চাষ।

 

জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের চাষি আব্দুল মালেক বলেন, “৩ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে ১ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছি। বাকি জমিতে ফুলকপি ও বেগুন চাষ করেছি। পেয়ারা গাছে যে রাসায়নিক সার-কীটনাশক ও সেচ দেওয়া হয়, সেটাতেই সাথী ফসল চাষ হয়ে যায়। সাথী ফসলের জন্য আলাদা খরচ করতে হয় না। ইতিমধ্যেই বেগুন বিক্রি করা শুরু হয়ে গেছে। সাথী ফসল থেকে বাড়তি টাকাটা বোনাস হিসেবে পাবো।”

 

হাসাদাহ গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, “কোন ফসল চাষ করলে লাভ হবে আর কোনটিতে লোকসান হবে তা বলা মুশকিল। আমার মাল্টা বাগানের সারির মধ্যে বেড পদ্ধতিতে পেঁয়াজ, রসুন ও ধনিয়া পাতা চাষ করেছি। একটি ফসলে লোকসান হলে আরেকটি ফসলে ভালো দাম পাওয়া যায়। যার কারণে সাথী ফসল চাষ করা হয়। সাথী ফসল চাষ করলে কখনো লোকসান হয় না।”

 

শামিম হোসাইন নামের আরেক চাষি বলেন, “২ বিঘা জমির আখের মধ্যে সরিষা ও মসুরি চাষ করেছি। অন্য একটি জমিতে আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে মাসকলায়ের বীজ বুনেছি। আখ দীর্ঘমেয়াদি ফসল। আখের চারা বের হওয়ার পর সাথী ফসল তুলে নেওয়া হয়। আখ চাষে জমিতে যে পরিমাণ কেরুর জৈব সার দেওয়া হয়েছে, তাতেই সাথী ফসল উঠে যাবে। সাথী ফসল চাষ করে বাড়তি যে আয়ের সুযোগ পাওয়া যায়, সেটা দিয়ে জমি লিজের টাকা ও আখের উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নেওয়া যায়। সাথী ফসল চাষ করলে অন্যান্য ফসলে তেমন ক্ষতি হয় না।”

 

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, “বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকায় এ উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে সাথী ফসল চাষ করার আগ্রহ বেড়েছে। সাথী ফসল চাষ করলে ফসলে রোগবালাই কম হয় এবং একই জমিতে একই খরচে একাধিক ফসল পাওয়া যায়। সাথী ফসলের যে কান্ড ও পাতা মাটিতে পড়ে, সেটা উৎকৃষ্ট মানের সবুজ সার তৈরি করে। সাথী ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।”