Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

কানাডায় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, চ্যালেঞ্জে অভিবাসীরা

কানাডার ফেডারেল বাজেট ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ওয়ার্ক পারমিটধারী, স্থায়ী ও নতুন অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য আবাসন সংকট নিরসন ও নাগরিক পরিষেবার ওপর চাপ কমানো; তবে এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

 

স্টাডি পারমিটে কঠোর সীমাবদ্ধতা

 

ফেডারেল বাজেট অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে নতুন আন্তর্জাতিক স্টাডি পারমিটের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৯ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ১ লাখ ৫৫ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২০২৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার। পরবর্তী দুই বছর—২০২৭ ও ২০২৮ সালেও একই সীমা বহাল থাকবে।

 

এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ওপর নির্ভরশীল কানাডার উচ্চশিক্ষা খাতে বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর্থিক সংকটে ফেলবে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডা আর সহজ গন্তব্য নাও থাকতে পারে।

 

স্থায়ী অভিবাসনে (PR) নতুন কৌশল

 

বাজেটে স্থায়ী অভিবাসনের সংখ্যা স্থিতিশীল রাখা হলেও নীতিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে সরকার সংখ্যার চেয়ে দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

২০২৬ সাল থেকে প্রতি বছর স্থায়ী অভিবাসীর লক্ষ্যমাত্রা কমে ৩ লাখ ৮০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৩ লাখ ৯৫ হাজার। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ আসবে অর্থনৈতিক শ্রেণির (Economic Class) আওতায়—অর্থাৎ যাদের স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি বা দক্ষ জনবলের ঘাটতি থাকা খাতে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

 

অস্থায়ী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

 

বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো—বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী বাসিন্দা (PR) করার প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ।

 

২০২৬ সালে প্রায় ৩৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটধারীকে দ্রুত PR দেওয়ার জন্য একটি ‘লক্ষ্যভিত্তিক এককালীন উদ্যোগ’ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়মিত কোটার অতিরিক্ত। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখা সহজ হবে।

 

প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

 

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাঈম উল হাসান, বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরিতে চাকরিরত, বলেন—“আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় ও টিউশন ফি বেড়ে যাওয়ায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জীবন ইতিমধ্যে কঠিন হয়ে গেছে। তার ওপর স্টাডি পারমিট সীমিত করায় নতুন শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হবে।”

 

অন্যদিকে কানাডার রেগুলেটেড ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট সিদ্দিকুর রহমান বলেন—“ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি বা বন্ধও হয়নি, বরং আগের চেয়ে আরও শক্ত হয়েছে। যারা কানাডায় আসতে চান, তাদের উচিত সঠিক তথ্য জেনে, প্রস্তুতি নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া।”

ভবিষ্যৎ চিত্র

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কানাডা এখন ‘সংখ্যার চেয়ে গুণে’ মনোযোগী হচ্ছে। অর্থাৎ, দেশটি আর আগের মতো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে না—বরং যোগ্য, দক্ষ ও প্রস্তুত অভিবাসীরাই এখন কানাডায় সুযোগ পাবেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

কানাডায় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, চ্যালেঞ্জে অভিবাসীরা

আপডেট টাইম : 12:18:26 pm, Thursday, 13 November 2025

কানাডার ফেডারেল বাজেট ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ওয়ার্ক পারমিটধারী, স্থায়ী ও নতুন অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য আবাসন সংকট নিরসন ও নাগরিক পরিষেবার ওপর চাপ কমানো; তবে এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

 

স্টাডি পারমিটে কঠোর সীমাবদ্ধতা

 

ফেডারেল বাজেট অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে নতুন আন্তর্জাতিক স্টাডি পারমিটের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৯ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ১ লাখ ৫৫ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২০২৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার। পরবর্তী দুই বছর—২০২৭ ও ২০২৮ সালেও একই সীমা বহাল থাকবে।

 

এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ওপর নির্ভরশীল কানাডার উচ্চশিক্ষা খাতে বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর্থিক সংকটে ফেলবে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডা আর সহজ গন্তব্য নাও থাকতে পারে।

 

স্থায়ী অভিবাসনে (PR) নতুন কৌশল

 

বাজেটে স্থায়ী অভিবাসনের সংখ্যা স্থিতিশীল রাখা হলেও নীতিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে সরকার সংখ্যার চেয়ে দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

২০২৬ সাল থেকে প্রতি বছর স্থায়ী অভিবাসীর লক্ষ্যমাত্রা কমে ৩ লাখ ৮০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৩ লাখ ৯৫ হাজার। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ আসবে অর্থনৈতিক শ্রেণির (Economic Class) আওতায়—অর্থাৎ যাদের স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি বা দক্ষ জনবলের ঘাটতি থাকা খাতে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

 

অস্থায়ী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

 

বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো—বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী বাসিন্দা (PR) করার প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ।

 

২০২৬ সালে প্রায় ৩৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটধারীকে দ্রুত PR দেওয়ার জন্য একটি ‘লক্ষ্যভিত্তিক এককালীন উদ্যোগ’ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়মিত কোটার অতিরিক্ত। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখা সহজ হবে।

 

প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

 

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাঈম উল হাসান, বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরিতে চাকরিরত, বলেন—“আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় ও টিউশন ফি বেড়ে যাওয়ায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জীবন ইতিমধ্যে কঠিন হয়ে গেছে। তার ওপর স্টাডি পারমিট সীমিত করায় নতুন শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হবে।”

 

অন্যদিকে কানাডার রেগুলেটেড ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট সিদ্দিকুর রহমান বলেন—“ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি বা বন্ধও হয়নি, বরং আগের চেয়ে আরও শক্ত হয়েছে। যারা কানাডায় আসতে চান, তাদের উচিত সঠিক তথ্য জেনে, প্রস্তুতি নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া।”

ভবিষ্যৎ চিত্র

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কানাডা এখন ‘সংখ্যার চেয়ে গুণে’ মনোযোগী হচ্ছে। অর্থাৎ, দেশটি আর আগের মতো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে না—বরং যোগ্য, দক্ষ ও প্রস্তুত অভিবাসীরাই এখন কানাডায় সুযোগ পাবেন।