ড. মুহাম্মদ ইউনূস, নোবেল বিজয়ী
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
আসসালামু আলাইকুম।
বাংলাদেশ বিশ্বের নানা প্রান্তে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস বহন করে আসছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি কর্মীর ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও জনশক্তি রপ্তানির বিশাল সুযোগ আমরা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছি না। এর ফলে দেশ হারাচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্ভাব্য রেমিট্যান্স আয়।
বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর জন্য ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার বেশি অর্থও নেওয়া হয়। যখন নিয়োগকর্তা নিজ চাহিদা অনুযায়ী কর্মী নিতে আগ্রহী, তখন কর্মীকে কেন এত টাকা ব্যয় করতে হবে? কর্মী কাজও করবে, আবার বিপুল অঙ্কের অর্থও দেবে—এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অনৈতিক।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তার চাহিদা অনুযায়ী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাই সকল ব্যয় বহন করে এবং যথাযথ সার্ভিস চার্জ প্রদান করে। কিন্তু দেশে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যবসার নামে প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের ভাবমূর্তি ও অর্থনীতিতে।
আজ বিশ্ববাজারে কর্মীর চাহিদা আগের তুলনায় আরও বেশি। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বাংলাদেশ এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অতএব, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি বিনীত অনুরোধ—জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থাপনাকে পুনর্গঠন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং বিদেশি বাজারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করা জরুরি। এখনো স্বল্প খরচে লাখ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানো সম্ভব, যা দেশের রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
এই খাতকে সঠিক পরিকল্পনা ও নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায়।
ধন্যবাদান্তে,
এস এম রহমান পারভেজ
মালয়েশিয়া প্রবাসী
+৬০১৬২৩৪৮৪৭৪

এস এম রহমান পারভেজ 



















