অভিবাসন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবা প্রদানের মান উন্নত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম—ওইপি। আজ ঢাকার একটি হোটেলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং সুইজারল্যান্ড সরকারের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (প্রকবৈকম)। অভিবাসনে আগ্রহী কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি, বিএমইটি, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ও পুনর্বাসন সেবাদাতা—সকল অংশীজনকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে, দালালচক্রের প্রভাব কমবে এবং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশের সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন দীপাক এলমার এবং আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন। এছাড়াও বিভিন্ন দূতাবাস, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘ সংস্থা, রিক্রুটিং এজেন্সি, নিয়োগদাতা সংগঠন এবং সরকারি–বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রকবৈকমের সিনিয়র সচিব ড. নিয়ামত উল্যা ভূঁইয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. আসিফ নজরুল বলেন,“এই উদ্যোগ নিরাপদ, স্বচ্ছ ও কার্যকর শ্রম অভিবাসনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রবাসী কর্মীরা আমাদের অর্থনীতির চালিকা শক্তি; তাদের অভিবাসন যাত্রা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করা আমাদের দায়িত্ব।”
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন,“স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত নিয়োগ ব্যবস্থা দ্বিপাক্ষিক শ্রমচুক্তিকে আরও শক্তিশালী করে এবং গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আস্থা বৃদ্ধি করে।”
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন,“ওইপি ন্যায়সংগত নিয়োগ নীতিমালা বাস্তবায়নের একটি বড় পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে এবং কর্মীদের যাচাইকৃত তথ্য পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করবে।”
সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন দীপাক এলমার বলেন,“প্রযুক্তি তার ভূমিকা রাখবে, তবে এই প্ল্যাটফর্মের সাফল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, রিক্রুটিং এজেন্সি, নিয়োগকর্তা ও অভিবাসীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ওপর।”
সমাপনী বক্তব্যে প্রকবৈকমের সিনিয়র সচিব ড. নিয়ামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন,“ওইপির উদ্বোধন কোনো প্রকল্পের শেষ নয়; বরং শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনার নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমরা প্ল্যাটফর্মের বৈশিষ্ট্য আরও উন্নত করব এবং অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব, যাতে প্রবাসী কর্মীরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ যাত্রা পরিকল্পনা করতে পারেন।”
অনুষ্ঠানটি নিরাপদ, নিয়মিত ও ন্যায়সংগত অভিবাসন অগ্রগতিতে ‘ওইপি’-র সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সব অংশীজনের টেকসই সহযোগিতার আহ্বানের মাধ্যমে শেষ হয়।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 



















