‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে তিন দিনে মোট ৮ হাজার ২০১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫৮১ জন পুরুষ এবং ৬২০ জন নারী।
শনিবার (২২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে অ্যাপের নিবন্ধন পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে আগ্রহীরা গত তিন দিনে ২৯টি দেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধিতদের প্রায় অর্ধেকই দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী। সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ৩ হাজার ৭৯৩ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান—সেখান থেকে নিবন্ধন করেছেন এক হাজার ৪৫ জন। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এক হাজার জন, চীন থেকে ৬৫৬ জন, মিশর থেকে ২২৫ জন এবং লিবিয়া থেকে ১৫৯ জন নিবন্ধন করেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের পাশাপাশি দেশের ভেতরের তিন ধরনের বিশেষ ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ। শুধুমাত্র নিবন্ধিতরাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এ জন্য বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঁচ দিন করে নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।
ওসিভি–এসডিআই (আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন) প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান জানান, প্রথম পর্বে ১৯ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা অঞ্চলের ৫২ দেশের প্রবাসীরা নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন। ২৩ নভেম্বর এই পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।
বাকি দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীরা ধাপে ধাপে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। প্রতিটি অঞ্চলের জন্য পাঁচ দিন করে সময় বরাদ্দ থাকবে।
দেশের ভেতরে থাকা তিন ধরনের বিশেষ ক্যাটাগরির ব্যক্তিরাও ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। এ সময় বাদ পড়া প্রবাসীরাও নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।
পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া
পোস্টাল ভোটিং সম্পন্ন হবে নিম্নোক্ত ধাপগুলোতে—
প্রচার → নিবন্ধন → ব্যালট পেপার ও তিন ধরনের খাম মুদ্রণ → নির্বাচন কর্মকর্তার উপস্থিতি → পার্সোনালাইজেশন (ডাক বিভাগ) → পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু → ব্যালট ট্র্যাকিং → ভোট প্রদান → প্রবাসে নিকটস্থ ডাকবাক্সে খাম ফেলা → পোস্টাল ব্যালট ফেরত ও ট্র্যাকিং → ডাক বিভাগ গ্রহণ → রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছানো → রিটার্নিং অফিসারের গ্রহণ → পোস্টাল ব্যালট ব্যালট বাক্সে সংরক্ষণ → গণনা → ফল ঘোষণা।
প্রবাসী বাংলাদেশির তালিকাভুক্তি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া
অ্যাপ ডাউনলোড → লগইন/রেজিস্ট্রেশন পেজ → এনরোলমেন্টের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি → মোবাইল/ইমেইল/ওটিপি/ভেরিফিকেশন/পাসওয়ার্ড → ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন → এনআইডি ভেরিফিকেশন → ফেসিয়াল রিকগনিশন ও লাইভলিনেস চেক → সেলফি → প্রবাসের ঠিকানা, পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান → তালিকাভুক্তি ও নিবন্ধন সম্পন্ন।
সরকারি চাকরিজীবীর তালিকাভুক্তি
ওপেন এনরোলমেন্ট → অ্যাপ লগইন → ই-কেওয়াইসি ডিসক্লেইমার → ফেসিয়াল রিকগনিশন ও লাইভলিনেস চেক → এনআইডি ভেরিফিকেশন → আইবাস++ ভেরিফিকেশন → ঠিকানা, ওটিপি → তালিকাভুক্তি ও নিবন্ধন সম্পন্ন → ভোটার তালিকা মুদ্রণ → ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো → ভোটার ব্যালট গ্রহণ।
ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের তালিকাভুক্তি
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা চূড়ান্ত হওয়ার পর অ্যাপ ব্যবহার → লগইন → ই-কেওয়াইসি ডিসক্লেইমার → ফেসিয়াল রিকগনিশন ও লাইভলিনেস চেক → এনআইডি ভেরিফিকেশন → ঠিকানা, ওটিপি → তালিকাভুক্তি ও নিবন্ধন সম্পন্ন → ভোটার তালিকা মুদ্রণ → ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো → ভোটার ব্যালট গ্রহণ।
কারাবন্দিদের তালিকাভুক্তি
তফসিল ঘোষণার পর কারা অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী → সংশ্লিষ্ট কারাগারে অ্যাপ লগইন → ই-কেওয়াইসি ডিসক্লেইমার → ফেসিয়াল রিকগনিশন ও লাইভলিনেস চেক → এনআইডি ভেরিফিকেশন → ঠিকানা, ওটিপি → তালিকাভুক্তি ও নিবন্ধন সম্পন্ন → ভোটার তালিকা মুদ্রণ → ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো → ভোটার ব্যালট গ্রহণ।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 



















