Dhaka , Thursday, 26 February 2026
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ মালয়েশিয়ায় ধর্মঘট করায় ১৭২ বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরিচ্যুত

অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

অস্ট্রেলিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্সসহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোকে দেশটির ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে হবে। তা না করলে এসব কোম্পানিকে ৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।

 

সরকার বলছে, প্রযুক্তি জায়ান্টদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। সিডনি থেকে এএফপি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এ সিদ্ধান্তকে বিশ্বের অনেক দেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

 

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ কঠোর ভাষায় বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে। এটি আমাদের দেশের অন্যতম বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। আমরা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেব।’

 

সরকার আরও জানায়, শিশুদের ফোন স্ক্রিনে বুলিং, যৌনতা ও সহিংসতা সম্পর্কিত ভিডিও ঢুকিয়ে দেওয়া তথাকথিত “শিকারী অ্যালগরিদম” থেকে তাদের রক্ষায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

নতুন আইনটি অস্ট্রেলিয়া জুড়ে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

 

ফলে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে অনেক কিশোর-তরুণ দেখেছে, তাদের পরিচিত অ্যাপগুলো আর আগের মতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

 

মাত্র ১০ বছর বয়সী বিআঙ্কা নাভারো উদ্বিগ্ন—আর কত বছর পরে সে ইউটিউব ব্যবহার করতে পারবে। সে এএফপিকে বলেছে, “খুব খারাপ লাগছে। আমাকে এখন ছয় বছর অপেক্ষা করতে হবে।”

 

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট, থ্রেডস এবং এক্সসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ১৬ বছরের নিচে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বা পুরোনো অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম কিক ও টুইচও একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।

 

অনেক অভিভাবক এ সিদ্ধান্তকে স্বস্তির হিসেবে দেখছেন।

 

মিয়া ব্যানিস্টার জানান, অনলাইন বুলিংয়ের কারণে গত বছর তার কিশোর ছেলে অলিকে হারাতে হয়। তিনি বলেন, ওজন কমানো সম্পর্কিত ভিডিওর অন্তহীন স্রোত তার সন্তানের খাদ্যাভ্যাসেও বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।

 

গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, অতিরিক্ত অনলাইন সময় কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফোন ব্যবহারের কারণে ঠিক কোন মানসিক পরিবর্তন হচ্ছে—তা অন্যান্য জীবনযাত্রার উপাদান থেকে আলাদা করে দেখা কঠিন।

 

পাঁচ সন্তানের বাবা দানি এলাচি বলেন, “এই সীমাবদ্ধতা ছিল বহুল প্রতীক্ষিত। এখনই সঠিক সময় লাগাম টেনে ধরা।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির

অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট টাইম : 02:09:05 pm, Wednesday, 10 December 2025

অস্ট্রেলিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্সসহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোকে দেশটির ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে হবে। তা না করলে এসব কোম্পানিকে ৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।

 

সরকার বলছে, প্রযুক্তি জায়ান্টদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। সিডনি থেকে এএফপি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এ সিদ্ধান্তকে বিশ্বের অনেক দেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

 

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ কঠোর ভাষায় বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে। এটি আমাদের দেশের অন্যতম বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। আমরা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেব।’

 

সরকার আরও জানায়, শিশুদের ফোন স্ক্রিনে বুলিং, যৌনতা ও সহিংসতা সম্পর্কিত ভিডিও ঢুকিয়ে দেওয়া তথাকথিত “শিকারী অ্যালগরিদম” থেকে তাদের রক্ষায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

নতুন আইনটি অস্ট্রেলিয়া জুড়ে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

 

ফলে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে অনেক কিশোর-তরুণ দেখেছে, তাদের পরিচিত অ্যাপগুলো আর আগের মতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

 

মাত্র ১০ বছর বয়সী বিআঙ্কা নাভারো উদ্বিগ্ন—আর কত বছর পরে সে ইউটিউব ব্যবহার করতে পারবে। সে এএফপিকে বলেছে, “খুব খারাপ লাগছে। আমাকে এখন ছয় বছর অপেক্ষা করতে হবে।”

 

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট, থ্রেডস এবং এক্সসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ১৬ বছরের নিচে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বা পুরোনো অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম কিক ও টুইচও একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।

 

অনেক অভিভাবক এ সিদ্ধান্তকে স্বস্তির হিসেবে দেখছেন।

 

মিয়া ব্যানিস্টার জানান, অনলাইন বুলিংয়ের কারণে গত বছর তার কিশোর ছেলে অলিকে হারাতে হয়। তিনি বলেন, ওজন কমানো সম্পর্কিত ভিডিওর অন্তহীন স্রোত তার সন্তানের খাদ্যাভ্যাসেও বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।

 

গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, অতিরিক্ত অনলাইন সময় কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফোন ব্যবহারের কারণে ঠিক কোন মানসিক পরিবর্তন হচ্ছে—তা অন্যান্য জীবনযাত্রার উপাদান থেকে আলাদা করে দেখা কঠিন।

 

পাঁচ সন্তানের বাবা দানি এলাচি বলেন, “এই সীমাবদ্ধতা ছিল বহুল প্রতীক্ষিত। এখনই সঠিক সময় লাগাম টেনে ধরা।”