কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস, দোহায় উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুই পর্বে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকালে মান্যবর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির শুভ সূচনা করেন। এ উপলক্ষে প্রদত্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও মাননীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাণীসমূহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা পাঠ করেন।
সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর শহিদদের পুণ্য স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে “বিজয়ের আনন্দে নতুন বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনায় বক্তাগণ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকলের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। নতুন বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এ সুযোগ যেন পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো যায়—সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের অমর স্মৃতি এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ‘৭১-এর স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ও ‘২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান’—উভয়েরই মূল লক্ষ্য ছিল একটি শোষণহীন, বৈষম্যহীন, বঞ্চনামুক্ত, গণতান্ত্রিক, উদার ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি পোস্টাল ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে কাতার সফররত দুর্নীতি দমন কমিশনের সম্মানিত সচিব মো. খালেদ রহিম বাংলাদেশে দুর্নীতি দমনে প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরবর্তীতে “মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম” শীর্ষক একটি অংশগ্রহণমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারবর্গ, বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষার্থীরা এবং স্থানীয় বাংলাদেশি বৈশাখী ব্যান্ড গ্রুপসহ অন্যান্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন। দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে উপস্থিত সবাই কণ্ঠ মেলান।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সকলের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন।

কাতার প্রতিনিধি 


















