Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

ফিলিস্তিনিসহ ৭ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ

ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারী ব্যক্তি এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো— বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস ও সিরিয়া।

 

ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীদের তথ্য যাচাই, নিরাপত্তা স্ক্রিনিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা ও তথ্য বিনিময় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

 

ঘোষণা অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

 

এর আগে গত নভেম্বরের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করে। সে সময় নিষিদ্ধ তালিকায় ছিল আফগানিস্তান, মিয়ানমার, বুরুন্ডি, শাদ, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেন।

 

পরে গত ৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা অন্তত ৩২টিতে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সে সময় অতিরিক্ত ১৩টি দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

 

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে বন্দুক হামলায় ১৫ জন ইহুদি নিহত হওয়ার ঘটনার পর ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনাকে বিশ্লেষকরা অপ্রত্যাশিত মনে করেননি।

 

তবে সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কারণ অল্প কিছুদিন আগেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারা হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সাবেক আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট এই নেতার বিরুদ্ধে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও সে সফরের আগে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষী নিহত হওয়ার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত শনিবার ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই হামলাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেন।

 

হোয়াইট হাউসের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়া দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও এখনো দেশটিতে কার্যকর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট ও নাগরিক পরিচয়পত্র ইস্যু, নিরাপত্তা যাচাই এবং ভ্রমণকারীদের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশটি প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিনিসহ ৭ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ

আপডেট টাইম : 11:16:04 am, Wednesday, 17 December 2025

ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারী ব্যক্তি এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো— বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস ও সিরিয়া।

 

ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীদের তথ্য যাচাই, নিরাপত্তা স্ক্রিনিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা ও তথ্য বিনিময় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

 

ঘোষণা অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

 

এর আগে গত নভেম্বরের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করে। সে সময় নিষিদ্ধ তালিকায় ছিল আফগানিস্তান, মিয়ানমার, বুরুন্ডি, শাদ, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেন।

 

পরে গত ৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা অন্তত ৩২টিতে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সে সময় অতিরিক্ত ১৩টি দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

 

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে বন্দুক হামলায় ১৫ জন ইহুদি নিহত হওয়ার ঘটনার পর ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনাকে বিশ্লেষকরা অপ্রত্যাশিত মনে করেননি।

 

তবে সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কারণ অল্প কিছুদিন আগেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারা হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সাবেক আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট এই নেতার বিরুদ্ধে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও সে সফরের আগে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষী নিহত হওয়ার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত শনিবার ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই হামলাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেন।

 

হোয়াইট হাউসের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়া দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও এখনো দেশটিতে কার্যকর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট ও নাগরিক পরিচয়পত্র ইস্যু, নিরাপত্তা যাচাই এবং ভ্রমণকারীদের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশটি প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না।