Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

মালয়েশিয়ার সাঁড়াশি অভিযানে ৭২ বাংলাদেশিসহ আটক ৪০২

মালয়েশিয়ার জোহর ও নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যে পৃথক সাঁড়াশি অভিযানে ৭২ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৪০২ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

 

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, জোহর বাহরুর তেব্রাউ শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত একটি কম্পিউটার যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী কারখানায় বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে অভিযান চালানো হয়। পূর্বে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে কারখানাটি থেকে ৩৫৬ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করা হয়।

 

জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (একেপিএস)-এর সহায়তায় জোহর ইমিগ্রেশনের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযানটি পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী বৈধ পাসপোর্ট ও কাজের অনুমতি ছাড়াই সেখানে কর্মরত ছিলেন।

 

অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করলে কারখানার সব বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্তে সহায়তার জন্য কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের দুইজন স্থানীয় কর্মচারীকেও আটক করা হয়েছে।

 

প্রাথমিক যাচাইয়ে জানা যায়, আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২৯৯ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ২৬ জন বাংলাদেশি, ২২ জন ভারতীয়, তিনজন ইন্দোনেশীয়, দুইজন নেপালি এবং একজন করে পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের নাগরিক। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে।

 

দাতুক মোহদ রুসদি জানান, কারখানাটিতে সুসংগঠিতভাবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অবৈধভাবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট। আটক সবাইকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী তদন্তের জন্য সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে যারা লাভবান হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জোহরজুড়ে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

এদিকে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের নিলাই এলাকায় একটি লৌহ প্রস্তুতকারক কারখানায় পৃথক অভিযানে ৪৬ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।

 

রাজ্য ইমিগ্রেশন পরিচালক কেনিথ তান আই কিয়াং জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পরিচালিত এই অভিযানে ২৬ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা অংশ নেন। মোট ১১৭ জনকে যাচাই-বাছাই করে ১৮ থেকে ৪৩ বছর বয়সী ৪৬ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন অভিবাসন অপরাধে আটক করা হয়।

 

অভিযানে সেরেমবান সিটি কাউন্সিলের ১৯ জন সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১ জন কর্মকর্তা সহায়তা করেন। দুপুর দেড়টার দিকে অভিযান শেষ হয় এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

 

কেনিথ তান জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থানসহ একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অপরাধ ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬ ও ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য।

 

আটকদের লেংগেং ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অবৈধ শ্রমিকদের নিয়োগকারী মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৫ই(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার সাঁড়াশি অভিযানে ৭২ বাংলাদেশিসহ আটক ৪০২

আপডেট টাইম : 03:44:53 pm, Thursday, 18 December 2025

মালয়েশিয়ার জোহর ও নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যে পৃথক সাঁড়াশি অভিযানে ৭২ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৪০২ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

 

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, জোহর বাহরুর তেব্রাউ শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত একটি কম্পিউটার যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী কারখানায় বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে অভিযান চালানো হয়। পূর্বে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে কারখানাটি থেকে ৩৫৬ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করা হয়।

 

জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (একেপিএস)-এর সহায়তায় জোহর ইমিগ্রেশনের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযানটি পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী বৈধ পাসপোর্ট ও কাজের অনুমতি ছাড়াই সেখানে কর্মরত ছিলেন।

 

অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করলে কারখানার সব বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্তে সহায়তার জন্য কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের দুইজন স্থানীয় কর্মচারীকেও আটক করা হয়েছে।

 

প্রাথমিক যাচাইয়ে জানা যায়, আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২৯৯ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ২৬ জন বাংলাদেশি, ২২ জন ভারতীয়, তিনজন ইন্দোনেশীয়, দুইজন নেপালি এবং একজন করে পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের নাগরিক। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে।

 

দাতুক মোহদ রুসদি জানান, কারখানাটিতে সুসংগঠিতভাবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অবৈধভাবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট। আটক সবাইকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী তদন্তের জন্য সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে যারা লাভবান হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জোহরজুড়ে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

এদিকে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের নিলাই এলাকায় একটি লৌহ প্রস্তুতকারক কারখানায় পৃথক অভিযানে ৪৬ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।

 

রাজ্য ইমিগ্রেশন পরিচালক কেনিথ তান আই কিয়াং জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পরিচালিত এই অভিযানে ২৬ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা অংশ নেন। মোট ১১৭ জনকে যাচাই-বাছাই করে ১৮ থেকে ৪৩ বছর বয়সী ৪৬ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন অভিবাসন অপরাধে আটক করা হয়।

 

অভিযানে সেরেমবান সিটি কাউন্সিলের ১৯ জন সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১ জন কর্মকর্তা সহায়তা করেন। দুপুর দেড়টার দিকে অভিযান শেষ হয় এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

 

কেনিথ তান জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থানসহ একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অপরাধ ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬ ও ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য।

 

আটকদের লেংগেং ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অবৈধ শ্রমিকদের নিয়োগকারী মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৫ই(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।