Dhaka , Wednesday, 23 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

কুয়েতে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইউএন হ্যাবিটাট কুয়েতের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী এবং ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ১৯ডিসেম্বর শুক্রবার কুয়েতের জাবরিয়ায় অবস্থিত সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে একটি রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন এবং ইউএন হ্যাবিটাট, কুয়েত-এর প্রধান ড. আমিরা আল হাসান যৌথভাবে রক্তদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

 

রক্তদান কর্মসূচির এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আফগানিস্তান, ভুটান, কম্বোডিয়া, লাওস এবং মায়ানমারের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া, কুয়েতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি রক্তদাতা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উক্ত রক্তদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

 

রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন, তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, আমাদের লক্ষ লক্ষ শহীদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহসিকতার মাধ্যমে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিজয় দিবস কেবল আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের স্মৃতি নয়; এটি আমাদের স্থায়ী মূল্যবোধ – স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, সংহতি এবং সহানুভূতির পূনর্ব্যাক্তি। দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত এই রক্তদান কর্মসূচি আমাদের বিজয় দিবসের সেই মূল্যবোধের একটি জীবন্ত অভিব্যক্তি।

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদযাপনের অংশ হিসেবেও এই রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে যেখানে প্রধানত কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী যুবকদের অংশগ্রহণ রয়েছে, কেননা বাংলাদেশী তরুণরা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি। তাই, কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী তরুণ প্রজন্মকে বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার নিমিত্তে উৎসাহিত করার জন্য এই রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে উদযাপন করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এই উদ্যোগের জন্য ইউএন-হ্যাবিট্যাট এবং এর প্রধান মিস আমিরা আল হাসানকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কুয়েত সরকার এবং কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ইউএন-হ্যাবিট্যাট, কুয়েত এর প্রধান ডাঃ আমিরা আল-হাসান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সামাজিক সংহতি জোরদার এবং কমিউনিটি কর্তৃক অংশগ্রহণের সংস্কৃতি সুসংহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে ইউএন-হ্যাবিট্যাট এই ধরনের মানবিক ও সামষ্টিক উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং উৎসাহিত করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগ গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ফর রিজিলিয়েন্ট সিটিজের অধীনে সংগঠিত পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই শহরগুলির জন্য ইউএন-হ্যাবিট্যাট -এর কাজের আওতার মধ্যে পড়ে। তিনি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন যে, এই ধরনের উদ্যোগ স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কমিউনিটির সক্ষমতা জোরদার করতে অবদান রাখে। তিনি রক্তদানের এই মহৎ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান।

 

কুয়েতে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতের রক্তদানের মাধ্যমে এই মহতী রক্তদান কর্মসূচি শুরু হয় এবং সারা দিন ধরে প্রায় ৩০০ জন বাংলাদেশী প্রবাসী রক্তদান করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

ফরাসি আভিজাত্যের রাজমুকুট ও পাথরে খোদাই করা সুরের প্রাসাদ

কুয়েতে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : 12:34:52 am, Sunday, 21 December 2025

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইউএন হ্যাবিটাট কুয়েতের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী এবং ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ১৯ডিসেম্বর শুক্রবার কুয়েতের জাবরিয়ায় অবস্থিত সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে একটি রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন এবং ইউএন হ্যাবিটাট, কুয়েত-এর প্রধান ড. আমিরা আল হাসান যৌথভাবে রক্তদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

 

রক্তদান কর্মসূচির এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আফগানিস্তান, ভুটান, কম্বোডিয়া, লাওস এবং মায়ানমারের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া, কুয়েতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি রক্তদাতা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উক্ত রক্তদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

 

রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন, তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, আমাদের লক্ষ লক্ষ শহীদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহসিকতার মাধ্যমে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিজয় দিবস কেবল আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের স্মৃতি নয়; এটি আমাদের স্থায়ী মূল্যবোধ – স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, সংহতি এবং সহানুভূতির পূনর্ব্যাক্তি। দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত এই রক্তদান কর্মসূচি আমাদের বিজয় দিবসের সেই মূল্যবোধের একটি জীবন্ত অভিব্যক্তি।

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদযাপনের অংশ হিসেবেও এই রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে যেখানে প্রধানত কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী যুবকদের অংশগ্রহণ রয়েছে, কেননা বাংলাদেশী তরুণরা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি। তাই, কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী তরুণ প্রজন্মকে বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার নিমিত্তে উৎসাহিত করার জন্য এই রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে উদযাপন করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এই উদ্যোগের জন্য ইউএন-হ্যাবিট্যাট এবং এর প্রধান মিস আমিরা আল হাসানকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কুয়েত সরকার এবং কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ইউএন-হ্যাবিট্যাট, কুয়েত এর প্রধান ডাঃ আমিরা আল-হাসান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সামাজিক সংহতি জোরদার এবং কমিউনিটি কর্তৃক অংশগ্রহণের সংস্কৃতি সুসংহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে ইউএন-হ্যাবিট্যাট এই ধরনের মানবিক ও সামষ্টিক উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং উৎসাহিত করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগ গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ফর রিজিলিয়েন্ট সিটিজের অধীনে সংগঠিত পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই শহরগুলির জন্য ইউএন-হ্যাবিট্যাট -এর কাজের আওতার মধ্যে পড়ে। তিনি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন যে, এই ধরনের উদ্যোগ স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কমিউনিটির সক্ষমতা জোরদার করতে অবদান রাখে। তিনি রক্তদানের এই মহৎ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান।

 

কুয়েতে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতের রক্তদানের মাধ্যমে এই মহতী রক্তদান কর্মসূচি শুরু হয় এবং সারা দিন ধরে প্রায় ৩০০ জন বাংলাদেশী প্রবাসী রক্তদান করেন।