Dhaka , Thursday, 24 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা হামলা, বহু হতাহত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো প্রদেশে একটি জনাকীর্ণ মসজিদে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় বর্নোর রাজধানী মাইদুগুরির গাম্বোরু মার্কেট এলাকার একটি মসজিদে এ হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৭ জন নিহত এবং ৩৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বিস্ফোরণের পরপরই আতঙ্কিত মানুষ দিগ্বিদিক ছুটোছুটি শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শী মুসা ইউশাউ জানান, তিনি অসংখ্য মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন। মাইদুগুরি পুলিশের মুখপাত্র নাহুম দাসো জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুনা ইউসুফ দাবি করেছেন, নিহতের সংখ্যা অন্তত আটজন। অন্যদিকে স্থানীয় মিলিশিয়া প্রধান বাবাকুরা কলো সাতজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।

 

এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই বর্বরোচিত হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে মাইদুগুরি শহরটি দীর্ঘকাল ধরে জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম ও আইএস-এর (ISWAP) তৎপরতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালের পর মাইদুগুরি শহরটি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও এই বিস্ফোরণ আবারও নিরাপত্তার কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

 

২০০৯ সাল থেকে বর্নো অঞ্চলে ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বোকো হারামের সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেড় দশকের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নাইজেরিয়ার সরকারি বাহিনী দীর্ঘ সামরিক অভিযান চালালেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনও চোরাগোপ্তা ও আত্মঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে, যা পার্শ্ববর্তী দেশ নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনেও ছড়িয়ে পড়েছে।

 

এই হামলাকে গত তিন বছরের মধ্যে মাইদুগুরিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা হামলা, বহু হতাহত

আপডেট টাইম : 12:35:58 pm, Thursday, 25 December 2025

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো প্রদেশে একটি জনাকীর্ণ মসজিদে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় বর্নোর রাজধানী মাইদুগুরির গাম্বোরু মার্কেট এলাকার একটি মসজিদে এ হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৭ জন নিহত এবং ৩৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বিস্ফোরণের পরপরই আতঙ্কিত মানুষ দিগ্বিদিক ছুটোছুটি শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শী মুসা ইউশাউ জানান, তিনি অসংখ্য মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন। মাইদুগুরি পুলিশের মুখপাত্র নাহুম দাসো জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুনা ইউসুফ দাবি করেছেন, নিহতের সংখ্যা অন্তত আটজন। অন্যদিকে স্থানীয় মিলিশিয়া প্রধান বাবাকুরা কলো সাতজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।

 

এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই বর্বরোচিত হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে মাইদুগুরি শহরটি দীর্ঘকাল ধরে জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম ও আইএস-এর (ISWAP) তৎপরতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালের পর মাইদুগুরি শহরটি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও এই বিস্ফোরণ আবারও নিরাপত্তার কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

 

২০০৯ সাল থেকে বর্নো অঞ্চলে ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বোকো হারামের সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেড় দশকের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নাইজেরিয়ার সরকারি বাহিনী দীর্ঘ সামরিক অভিযান চালালেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনও চোরাগোপ্তা ও আত্মঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে, যা পার্শ্ববর্তী দেশ নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনেও ছড়িয়ে পড়েছে।

 

এই হামলাকে গত তিন বছরের মধ্যে মাইদুগুরিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।