Dhaka , Friday, 25 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে ঢাকা–মালে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব

চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ জনবল উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

বৈঠকে মালদ্বীপ সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমিনাথ শিরনা ও খাদিজা আবদুল সামাদ আবদুল্লাহ, মালদ্বীপ মেডিকেল কাউন্সিলের সভাপতি ড. আলী শাহিদ মোহামেদ এবং রেজিস্ট্রার মোহামেদ শাফি এ. মুনিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কারিগরি প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন, যা বৈঠকের গুরুত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততাকে স্পষ্ট করে।

 

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। তার সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আগত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, মহাপরিচালক (ডিজিএমই) মল্লিকা খাতুন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, বিপিএমসিএর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. গাজী মিজানুর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট রইস এ. রব ও সাইমুম সাইরাস, যুগ্মসচিব এম. এ. মুবিন খান (আইপিপি)সহ অন্যান্য সদস্যরা।

 

বৈঠকে চিকিৎসা ও দন্ত শিক্ষা, এমবিবিএস ও বিডিএসসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চশিক্ষায় মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মালদ্বীপের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যখাতের জনবল চাহিদা পূরণে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

বাংলাদেশ পক্ষ চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টি তুলে ধরে জানায়, বর্তমানে দেশে ১১২টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে—এর মধ্যে ৩৭টি সরকারি ও ৫৮টি বেসরকারি—যেখানে মোট ১১ হাজার ১০১টি আসন বিদ্যমান। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে মোট আসনের সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে, যা মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।

 

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশেষভাবে উল্লেখ করে যে, বাংলাদেশে অধ্যয়নরত মালদ্বীপের মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের মালদ্বীপে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে কোনো অতিরিক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় না—যা বাংলাদেশ সরকারের আস্থা ও সৌহার্দ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। পাশাপাশি অনেক দেশে এমবিবিএস সম্পন্নের পর ইন্টার্নশিপের সুযোগ সীমিত হলেও বাংলাদেশে এই সুবিধা বিদ্যমান।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদি গ্রামীণ ক্লিনিক ও হাসপাতালভিত্তিক ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম চালুর প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়। এই উদ্যোগ দ্বীপভিত্তিক মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনে বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

 

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সাদৃশ্য মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে সহজে মানিয়ে নিতে সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ পক্ষ আরও জানায়, আগামী বছর থেকে দেশে এমআরসিএস পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

 

মালদ্বীপের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মালদ্বীপে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ মালদ্বীপের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

বৈঠকটি চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেষ হয়। উভয় পক্ষের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ–মালদ্বীপ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দুই দেশের টেকসই স্বাস্থ্য উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে ঢাকা–মালে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব

আপডেট টাইম : 04:50:00 pm, Friday, 26 December 2025

চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ জনবল উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

বৈঠকে মালদ্বীপ সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমিনাথ শিরনা ও খাদিজা আবদুল সামাদ আবদুল্লাহ, মালদ্বীপ মেডিকেল কাউন্সিলের সভাপতি ড. আলী শাহিদ মোহামেদ এবং রেজিস্ট্রার মোহামেদ শাফি এ. মুনিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কারিগরি প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন, যা বৈঠকের গুরুত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততাকে স্পষ্ট করে।

 

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। তার সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আগত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, মহাপরিচালক (ডিজিএমই) মল্লিকা খাতুন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, বিপিএমসিএর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. গাজী মিজানুর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট রইস এ. রব ও সাইমুম সাইরাস, যুগ্মসচিব এম. এ. মুবিন খান (আইপিপি)সহ অন্যান্য সদস্যরা।

 

বৈঠকে চিকিৎসা ও দন্ত শিক্ষা, এমবিবিএস ও বিডিএসসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চশিক্ষায় মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মালদ্বীপের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যখাতের জনবল চাহিদা পূরণে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

বাংলাদেশ পক্ষ চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টি তুলে ধরে জানায়, বর্তমানে দেশে ১১২টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে—এর মধ্যে ৩৭টি সরকারি ও ৫৮টি বেসরকারি—যেখানে মোট ১১ হাজার ১০১টি আসন বিদ্যমান। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে মোট আসনের সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে, যা মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।

 

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশেষভাবে উল্লেখ করে যে, বাংলাদেশে অধ্যয়নরত মালদ্বীপের মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের মালদ্বীপে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে কোনো অতিরিক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় না—যা বাংলাদেশ সরকারের আস্থা ও সৌহার্দ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। পাশাপাশি অনেক দেশে এমবিবিএস সম্পন্নের পর ইন্টার্নশিপের সুযোগ সীমিত হলেও বাংলাদেশে এই সুবিধা বিদ্যমান।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদি গ্রামীণ ক্লিনিক ও হাসপাতালভিত্তিক ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম চালুর প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়। এই উদ্যোগ দ্বীপভিত্তিক মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনে বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

 

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সাদৃশ্য মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে সহজে মানিয়ে নিতে সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ পক্ষ আরও জানায়, আগামী বছর থেকে দেশে এমআরসিএস পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

 

মালদ্বীপের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মালদ্বীপে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ মালদ্বীপের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

বৈঠকটি চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেষ হয়। উভয় পক্ষের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ–মালদ্বীপ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দুই দেশের টেকসই স্বাস্থ্য উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখবে।