Dhaka , Thursday, 26 February 2026
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ মালয়েশিয়ায় ধর্মঘট করায় ১৭২ বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরিচ্যুত

২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখ নতুন কর্মী নেবে সৌদি ও আমিরাত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার সত্ত্বেও আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ—সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোট ১৫ লাখেরও বেশি নতুন কর্মীর চাহিদা সৃষ্টি হতে পারে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার বিশ্লেষণে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

 

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ব্যবসা ও প্রশাসনে এআই ব্যবহারের পরিধি বাড়লেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মানবশ্রমের প্রয়োজন কমছে না। বরং অব্যাহত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, বড় আকারের উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরকারি-বেসরকারি সেবা খাতের বিস্তারের ফলে এই অঞ্চলে শ্রমশক্তির দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা আরও জোরদার হচ্ছে।

 

সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নির্মাণ, অবকাঠামো, পর্যটন, উৎপাদন, লজিস্টিকস ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছে। এসব প্রকল্পের কারণে দেশটিতে কর্মী চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

 

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না পেত, তাহলে সৌদি আরবের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কর্মীর প্রয়োজন হতো। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সত্ত্বেও আগামী বছরগুলোতে দেশটিকে উল্লেখযোগ্য শ্রম ঘাটতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১২ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিকভাবে অন্যতম দ্রুত সম্প্রসারিত শ্রমবাজার হিসেবে আমিরাতকে চিহ্নিত করছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মানবশ্রমের এই প্রবৃদ্ধির হার সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে সৌদি আরবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় অর্থনীতিতে কর্মী বৃদ্ধির গতি অনেক ধীর—যথাক্রমে ২ দশমিক ১ ও ২ দশমিক ৮ শতাংশ।

 

এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সার্ভিসনাউ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈশ্বিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থা পিয়ারসন। দুটি প্রতিষ্ঠানই শ্রমবাজার, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার জন্য পরিচিত।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির

২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখ নতুন কর্মী নেবে সৌদি ও আমিরাত

আপডেট টাইম : 12:49:22 pm, Saturday, 27 December 2025

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার সত্ত্বেও আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ—সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোট ১৫ লাখেরও বেশি নতুন কর্মীর চাহিদা সৃষ্টি হতে পারে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার বিশ্লেষণে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

 

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ব্যবসা ও প্রশাসনে এআই ব্যবহারের পরিধি বাড়লেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মানবশ্রমের প্রয়োজন কমছে না। বরং অব্যাহত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, বড় আকারের উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরকারি-বেসরকারি সেবা খাতের বিস্তারের ফলে এই অঞ্চলে শ্রমশক্তির দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা আরও জোরদার হচ্ছে।

 

সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নির্মাণ, অবকাঠামো, পর্যটন, উৎপাদন, লজিস্টিকস ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছে। এসব প্রকল্পের কারণে দেশটিতে কর্মী চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

 

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না পেত, তাহলে সৌদি আরবের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কর্মীর প্রয়োজন হতো। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সত্ত্বেও আগামী বছরগুলোতে দেশটিকে উল্লেখযোগ্য শ্রম ঘাটতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১২ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিকভাবে অন্যতম দ্রুত সম্প্রসারিত শ্রমবাজার হিসেবে আমিরাতকে চিহ্নিত করছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মানবশ্রমের এই প্রবৃদ্ধির হার সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে সৌদি আরবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় অর্থনীতিতে কর্মী বৃদ্ধির গতি অনেক ধীর—যথাক্রমে ২ দশমিক ১ ও ২ দশমিক ৮ শতাংশ।

 

এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সার্ভিসনাউ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈশ্বিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থা পিয়ারসন। দুটি প্রতিষ্ঠানই শ্রমবাজার, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার জন্য পরিচিত।