জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসে আবারও ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়। ডিসেম্বরের প্রথম ২৯ দিনে দেশে এসেছে প্রায় ৩০৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।
একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে প্রথমবার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। পরে ২০২১ সালে তা বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উঠলেও পরবর্তী সময়ে তা কমে যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে এসেছিল প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে একক মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে। এরপর ডিসেম্বর মাসেও প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের ঘর ছাড়াল।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার। এর আগের অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার।
প্রবাসী আয় বাড়ায় ব্যাংকিং খাত থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি বিদেশি ঋণপ্রবাহও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মঙ্গলবার নিলামের মাধ্যমে সাতটি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার কেনা হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ডিসেম্বর মাসেই কেনা হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ ৩৪ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি জানান, বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ডলার কিনেই রিজার্ভ শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 

















