রাজধানী ঢাকায় আজ রোববার চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ থেকে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, ফলে শীতের অনুভূতি বাড়বে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে—৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল নওগাঁর বদলগাছী, পাবনা ও রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে তুলনায় আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে।
তবে ঢাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। আজ সকালে রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে গতকাল তা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, রাজধানীতে শীতের তীব্রতা গতকালের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, দিনের বেলায় তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা আবার কমে যেতে পারে।
তার মতে, আজ রোববার থেকে পরবর্তী দুই-এক দিন সারাদেশে তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। এই প্রবণতা চলমান থেকে ৭ জানুয়ারির দিকে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে ১০ জানুয়ারির পর তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কুয়াশার ঘনত্বের ওপর শীতের অনুভূতি অনেকটাই নির্ভর করে। আগামী কয়েক দিন সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যার ফলে শীত আরও বেশি অনুভূত হবে।
আজ রোববার সকাল ৯টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারাদেশেই শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে। আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও সার্বিকভাবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এ মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে দেশের ওপর দিয়ে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 

















