মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) মালয়েশিয়ার একটি স্থানীয় বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী।
তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফরের পর আলোচনা নতুন গতি পায়। ইতোমধ্যে চুক্তির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। হাইকমিশনারের ভাষায়, আলোচনা জটিল হলেও উভয় পক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন করতে আগ্রহী।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিতে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বাংলাদেশ।
বাণিজ্য খাতে মালয়েশিয়া থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য, পাম অয়েল ও বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি করে বাংলাদেশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, জুতা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ নানা পণ্য।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে কেবল শ্রমবাজারনির্ভর হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন হাইকমিশনার। তিনি বলেন, মানবসম্পদ খাতে সম্পর্ক ভালো থাকলেও ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশ। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকরাও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর এবং ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালয়েশিয়া সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন হাইকমিশনার।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর যে সরকারই দায়িত্ব নিক না কেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে থাকবে। দীর্ঘ ৫৪ বছরের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বিস্তৃত ও অর্থবহ হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

প্রবাস ডেস্ক 



















