মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের সেমেনিহ ও কাজাং এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ পাঁচ দেশের ১৭১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। অবৈধ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ ও বসবাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত তথ্যে অনুযায়ী, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে শিল্প এলাকা ও নির্মাণস্থলকে লক্ষ্য করে সমন্বিত অভিযান শুরু করা হয়। প্রথমে সেলাঙ্গরের সেমেনিহ শিল্পাঞ্চলের চারটি স্থাপনায় এবং পরে কাজাংয়ের সুংগাই লং এলাকায় একটি নির্মাণ প্রকল্পে অভিযান চালানো হয়।
দুই সপ্তাহ ধরে পাওয়া জনসাধারণের অভিযোগ এবং পুত্রজায়ায় অবস্থিত অভিবাসন সদর দপ্তরের প্রয়োগ শাখার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে বিভিন্ন স্তরের মোট ১১০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযানে মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশন (এসএসএম), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং শ্রম বিভাগ (জেটিকে) সহযোগিতা করে।
অভিযান চলাকালে মোট ২১৬ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮৯ জন বিদেশি নাগরিক ও ২৭ জন মালয়েশীয় ছিলেন। যাচাই শেষে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ার ১৭১ জন নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৯ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
অভিবাসন বিভাগ জানায়, আটকরা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫)-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে অবস্থান, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা এবং অনুমোদন ছাড়া কাজ করা।
অভিযানে সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ১৫ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা ও ৫০০ রিঙ্গিতের সমন জারি করেছে। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে পাঁচজন মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে তলব করা হয়েছে।
আটক অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থান, অতিরিক্ত সময় থাকা কিংবা পাসের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসী নিয়োগ ও আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 

















