আজ পবিত্র শবে মেরাজ। মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ এই রাতটি ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে এই মহিমান্বিত রজনীতেই মহান আল্লাহর বিশেষ ইচ্ছায় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অলৌকিক সফরে দুনিয়া থেকে ঊর্ধ্বলোকের উদ্দেশে গমন করেন।
এই রাতে তিনি মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা এবং সেখান থেকে সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম করে আরশে আজিম পর্যন্ত পৌঁছান। সৃষ্টির ইতিহাসে এটি এমন এক বিস্ময়কর ঘটনা, যেখানে একজন মানুষ সরাসরি মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন। মেরাজের সফর শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বিধান উপহার হিসেবে নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।
এই মহান ঘটনার স্মরণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শবে মেরাজের রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটান। নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও গভীর মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। হাদিস শরিফে এই রাতের ইবাদতের বিশেষ গুরুত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে।
অনেক মুসলমান শবে মেরাজ উপলক্ষে পরদিন নফল রোজা পালন করে থাকেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রাতে ইবাদত করার এবং দিনে রোজা রাখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। ইবনে মাজাহ শরিফে বর্ণিত হয়েছে—
“এই রাতে নফল ইবাদত করো এবং দিনে রোজা রাখো।”
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, এই রাতে আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের পর দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বান্দাদের উদ্দেশে আহ্বান জানান— কেউ ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করা হবে, কেউ রিজিক চাইলে তা দেওয়া হবে, কেউ বিপদ থেকে মুক্তি চাইলে তাকে উদ্ধার করা হবে। ভোর পর্যন্ত এই আহ্বান অব্যাহত থাকে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৪)
শুধু শবে মেরাজ উপলক্ষে নয়, রজব মাসের ফজিলত অর্জনের আশায় অনেকেই এই মাসে তিন দিন নফল রোজা রাখেন। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা সারা বছরের নফল রোজার সমতুল্য সওয়াবের কারণ হয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে নফল ইবাদত ও অতিরিক্ত নামাজ বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে। তাই আত্মশুদ্ধি, গুনাহ থেকে মুক্তি এবং আত্মসংযমের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে শবে মেরাজের রাতকে বিবেচনা করা হয়।
শবে মেরাজ উপলক্ষে দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ ইবাদতের আয়োজন করা হয়েছে। ঘরে ঘরেও বিরাজ করছে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহ। গভীর রাত পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে দোয়া ও প্রার্থনায় মুখর থাকেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, এই পবিত্র রাতের বরকতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি ও কল্যাণ ফিরে আসবে।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 
















