Dhaka , Friday, 25 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

দক্ষিণ আফ্রিকার তিন দেশে ভয়াবহ বন্যা, নিহত শতাধিক

কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা ভারী বর্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত এই তিন দেশে প্রাণহানির সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। সামনে আরও বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোজাম্বিক। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি হ্রাস ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিক বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, পানিতে ডুবে, অবকাঠামো ধসে পড়া এবং কলেরাসহ পানিবাহিত রোগে এসব মৃত্যু ঘটেছে।

 

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, মোজাম্বিকে এই দুর্যোগে দুই লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা সামলানো দরিদ্র দেশটির জন্য এবারের বন্যা নতুন করে মানবিক সংকট তৈরি করেছে। এ ছাড়া মাদাগাস্কার, মালাউই ও জাম্বিয়াতেও বন্যার প্রভাব পড়েছে।

 

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ছাদ ও গাছে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের উদ্ধার করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী একটি চেকপোস্টে আটকে পড়া পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানান, এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ওই অঞ্চলে প্রায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় বসতবাড়ি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

 

লিম্পোপো প্রদেশের প্রিমিয়ার ফোফি রামাথুবা বলেন, প্রদেশজুড়ে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অনেকগুলো বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে। পাশের এমপুমালাঙ্গা প্রদেশেও সড়ক ও সেতুসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

ডব্লিউএফপি আরও জানিয়েছে, মোজাম্বিকে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে ধান ও ভুট্টার মতো প্রধান খাদ্যশস্য চাষ করা হয়েছিল। ফলে হাজারো ক্ষুদ্র কৃষক ও তাদের পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কখনো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়, কখনো তীব্র খরা, আবার কখনো ভয়াবহ বন্যা—এই ধারাবাহিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

দক্ষিণ আফ্রিকার তিন দেশে ভয়াবহ বন্যা, নিহত শতাধিক

আপডেট টাইম : 12:25:11 am, Sunday, 18 January 2026

কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা ভারী বর্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত এই তিন দেশে প্রাণহানির সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। সামনে আরও বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোজাম্বিক। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি হ্রাস ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিক বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, পানিতে ডুবে, অবকাঠামো ধসে পড়া এবং কলেরাসহ পানিবাহিত রোগে এসব মৃত্যু ঘটেছে।

 

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, মোজাম্বিকে এই দুর্যোগে দুই লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা সামলানো দরিদ্র দেশটির জন্য এবারের বন্যা নতুন করে মানবিক সংকট তৈরি করেছে। এ ছাড়া মাদাগাস্কার, মালাউই ও জাম্বিয়াতেও বন্যার প্রভাব পড়েছে।

 

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ছাদ ও গাছে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের উদ্ধার করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী একটি চেকপোস্টে আটকে পড়া পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানান, এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ওই অঞ্চলে প্রায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় বসতবাড়ি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

 

লিম্পোপো প্রদেশের প্রিমিয়ার ফোফি রামাথুবা বলেন, প্রদেশজুড়ে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অনেকগুলো বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে। পাশের এমপুমালাঙ্গা প্রদেশেও সড়ক ও সেতুসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

ডব্লিউএফপি আরও জানিয়েছে, মোজাম্বিকে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে ধান ও ভুট্টার মতো প্রধান খাদ্যশস্য চাষ করা হয়েছিল। ফলে হাজারো ক্ষুদ্র কৃষক ও তাদের পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কখনো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়, কখনো তীব্র খরা, আবার কখনো ভয়াবহ বন্যা—এই ধারাবাহিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।