মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের প্রাণকেন্দ্র কোতারায়া এবং সেলাঙ্গর রাজ্যের আম্পাং জায়ায় একযোগে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ অভিযানে বাংলাদেশিসহ অন্তত ২১৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে স্থানীয় নাগরিক ও বিদেশিসহ মোট ১ হাজার ৫৩০ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।
মালয়েশিয়া অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, প্রথম অভিযানটি রাজধানীর কোতারায়া এলাকার বাংলা মার্কেটে পরিচালনা করা হয়। সেখানে ৮৭৬ জনের নথিপত্র যাচাই করা হয়, যার মধ্যে ৬৫২ জন বিদেশি এবং ২২৪ জন স্থানীয় নাগরিক।
তিনি জানান, দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় সেলাঙ্গরের গ্যালাক্সি আম্পাং এলাকায়। সেখানে ৬৫৪ জনকে তল্লাশি করা হয়। এদের মধ্যে ৩৯৪ জন বিদেশি এবং ২৬০ জন মালয়েশীয় নাগরিক।
অভিযানে আটক ২১৭ জনের বয়স ২১ থেকে ৬৩ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ এবং ১৬২ জন নারী। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন—মিয়ানমারের ১৭ জন পুরুষ ও ৭২ জন নারী,ইন্দোনেশিয়ার ২০ জন পুরুষ ও ৪০ জন নারী,ফিলিপিন্সের ৫ জন পুরুষ ও ৪৬ জন নারী,
বাংলাদেশের ৩ জন পুরুষ,ভারতের ৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারী।
এছাড়া নেপালের ৫ জন, পাকিস্তানের ২ জন এবং নাইজেরিয়া ও জার্মানির ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন।
লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা (ওভারস্টে), পাসের শর্ত লঙ্ঘন এবং ভুয়া মালয়েশিয়ান জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযান চলাকালে কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের আটক করা হয়।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিবাসন বিভাগ জানায়, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ১৩ হাজার ৯১০টি অভিযানে ৯২ হাজার ৩৬০ জন অবৈধ অভিবাসী এবং ২ হাজার ১৬৩ জন নিয়োগকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া চলতি বছরের প্রথম ১৭ দিনেই মালয়েশিয়াজুড়ে ৫০০টিরও বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ১ হাজার ৭৬০ জন অভিবাসী এবং ৩৫ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করা হয়।
উপ-মহাপরিচালক আরও জানান, কোনো নিয়োগকর্তা বা স্থানীয় নাগরিক যেন অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় না দেন। এ ধরনের অপরাধের তথ্য দিয়ে অভিবাসন বিভাগকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 

















