রাশিয়া থেকে চাকরিচ্যুত করে ৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের কিউআর–৬৩৮ নম্বর ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির যৌথ সহায়তায় ফেরত আসা কর্মীদের বিমানবন্দরে পরিবহনসহ অন্যান্য জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ফেরত আসা কর্মীদের মধ্যে গাইবান্ধার মশিয়ুর রহমান, মানিকগঞ্জের আসমত আলী, ময়মনসিংহের হাইয়ুল মিয়া, সিরাজগঞ্জের আজাদুল হক, ঢাকার প্রসেনজিৎ রাজবংশী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. আব্দুল্লাহসহ আরও অনেকে রয়েছেন। তারা সবাই বিদেশে কাজের নামে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী প্রত্যেকের গড় ব্যয় প্রায় সাত লাখ টাকা বলে জানান তারা।
কর্মীদের অভিযোগ, কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরিচ্যুত করে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা জানান, পর্যায়ক্রমে মোট ১২০ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম দফায় আজ ৩৫ জন দেশে ফিরেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর ছাড়পত্রের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রিক্রুটিং এজেন্সি কাশিপুর ওভারসিজ (আর.এল–১৩১৭) তাদের রাশিয়ায় পাঠায়। ছাড়পত্রে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান মার্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ট্রেড ডেভেলপমেন্ট-এর নাম উল্লেখ থাকলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় ভিন্ন প্রতিষ্ঠান এলএলসি আলাবুগা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিতে।
চুক্তি অনুযায়ী কর্মীদের ফ্যাক্টরি শ্রমিক হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের দিয়ে ভবন নির্মাণকাজ করানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, দেশে অবস্থানকালে প্রথমে তাদেরকে জুবায়ের ওভারসিজ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি টিপিএস–৩৬০ বাংলাদেশ লিমিটেড (আর.এল–৯৯৫)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিএমইটি থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, রিক্রুটিং এজেন্সি টিপিএস–৩৬০ বাংলাদেশ লিমিটেড কৌশলে বিএমইটির ছাড়পত্রে অন্য একটি রিক্রুটিং এজেন্সি কাশিপুর ওভারসিজ (আর.এল–১৩১৭)-এর নাম ব্যবহার করেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মীরা সংশ্লিষ্ট সকল দোষীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাস ডেস্ক 



















