Dhaka , Thursday, 24 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

চট্টগ্রামকে উড়িয়ে দিয়ে বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা ঘরে তোলে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

 

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী। জবাবে চাপের মুখে পড়ে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় চট্টগ্রামের ইনিংস।

 

এই জয়ের মধ্য দিয়ে রাজশাহী দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএলের শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করল। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে প্রথম শিরোপা জিতেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তিনবার শিরোপা জিতেছে ঢাকা, আর রাজশাহীর মতো দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশাল। একবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে রংপুর রাইডার্সের।

 

চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান টস জিতে রাজশাহীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান। ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে আসে ৮৩ রান। ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে বিদায় নেন।

 

দ্বিতীয় উইকেটে কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৪৭ রানের কার্যকর জুটি গড়েন তানজিদ। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে আউট হন।

 

এরপর পুরো ইনিংসজুড়ে রাজত্ব করেন তানজিদ। অর্ধশতকের পর তিন অঙ্ক ছুঁয়ে এবারের আসরে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটার হিসেবেও নাম লেখান তানজিদ—এর আগে এই কীর্তি ছিল কেবল ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের।

 

৬২ বলে খেলা তার ১০০ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কায়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১১ রান, আর জিমি নিশাম অপরাজিত থাকেন ৭ রানে।

 

চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম।

 

১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। মাত্র ১৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ফিরে যান সাজঘরে। মোহাম্মদ নাঈম শেখ ১০ বলে ৯ রান করেন, আর মাহমুদুল হাসান জয় কোনো রান না করেই আউট হন। হাসান নেওয়াজ করেন ৭ বলে ১১ রান।

 

মাঝে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মির্জা বেগ ও উইকেটরক্ষক জাহিদুজ্জামান। তবে ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচ দ্রুতই রাজশাহীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১ রান করেন, আর মির্জা বেগ ৩৬ বলে ৩৯ রান করে আউট হন।

 

শেষদিকে আসিফ আলী ১৬ বলে ২১ রান করলেও ইনিংস দীর্ঘ করতে পারেননি। আমির জামাল একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৮ রানে বিদায় নেন। বাকিরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে ব্যর্থ হন।

 

রাজশাহীর বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্দো। ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। হাসান মুরাদ নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া জিমি নিশাম দুটি এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি উইকেট শিকার করেন।

 

সবমিলিয়ে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স প্রমাণ করল, এবারের বিপিএলের সেরা দল তারাই।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

চট্টগ্রামকে উড়িয়ে দিয়ে বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

আপডেট টাইম : 12:01:22 am, Sunday, 25 January 2026

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা ঘরে তোলে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

 

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী। জবাবে চাপের মুখে পড়ে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় চট্টগ্রামের ইনিংস।

 

এই জয়ের মধ্য দিয়ে রাজশাহী দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএলের শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করল। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে প্রথম শিরোপা জিতেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তিনবার শিরোপা জিতেছে ঢাকা, আর রাজশাহীর মতো দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশাল। একবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে রংপুর রাইডার্সের।

 

চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান টস জিতে রাজশাহীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান। ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে আসে ৮৩ রান। ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে বিদায় নেন।

 

দ্বিতীয় উইকেটে কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৪৭ রানের কার্যকর জুটি গড়েন তানজিদ। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে আউট হন।

 

এরপর পুরো ইনিংসজুড়ে রাজত্ব করেন তানজিদ। অর্ধশতকের পর তিন অঙ্ক ছুঁয়ে এবারের আসরে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটার হিসেবেও নাম লেখান তানজিদ—এর আগে এই কীর্তি ছিল কেবল ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের।

 

৬২ বলে খেলা তার ১০০ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কায়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১১ রান, আর জিমি নিশাম অপরাজিত থাকেন ৭ রানে।

 

চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম।

 

১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। মাত্র ১৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ফিরে যান সাজঘরে। মোহাম্মদ নাঈম শেখ ১০ বলে ৯ রান করেন, আর মাহমুদুল হাসান জয় কোনো রান না করেই আউট হন। হাসান নেওয়াজ করেন ৭ বলে ১১ রান।

 

মাঝে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মির্জা বেগ ও উইকেটরক্ষক জাহিদুজ্জামান। তবে ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচ দ্রুতই রাজশাহীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১ রান করেন, আর মির্জা বেগ ৩৬ বলে ৩৯ রান করে আউট হন।

 

শেষদিকে আসিফ আলী ১৬ বলে ২১ রান করলেও ইনিংস দীর্ঘ করতে পারেননি। আমির জামাল একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৮ রানে বিদায় নেন। বাকিরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে ব্যর্থ হন।

 

রাজশাহীর বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্দো। ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। হাসান মুরাদ নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া জিমি নিশাম দুটি এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি উইকেট শিকার করেন।

 

সবমিলিয়ে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স প্রমাণ করল, এবারের বিপিএলের সেরা দল তারাই।