মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক সার্ফিং অঙ্গনে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় এসেছেন কক্সবাজারের উদীয়মান সার্ফার ইউনুস হোসেন। মালয়েশিয়ার টিওমান দ্বীপে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘টিওমান সারফেস্ট ২০২৬’-এ বিশ্বের নামকরা সার্ফারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন এই বাংলাদেশি তরুণ।
গত ২৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি টিওমান দ্বীপের কামপুং জুয়ারা সমুদ্রসৈকতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তাল সমুদ্র ও বিশাল ঢেউয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ইউনুস হোসেন কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে টিকে থাকেন। ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি সেমিফাইনালের এলিমিনেশন রাউন্ডে পৌঁছান। তবে শেষ মুহূর্তে সামান্য পয়েন্টের ব্যবধানে চূড়ান্ত জয় থেকে বঞ্চিত হন তিনি।
ফলাফল প্রত্যাশিত না হলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি এই লড়াকু সার্ফার। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইউনুস হোসেন বলেন,“প্রতিযোগিতার আকার যাই হোক না কেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সার্ফারদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের দেশের পতাকা তুলে ধরতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। আপনাদের দোয়া ও সমর্থনে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল এনে দেশের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।”
তিনি শুরু থেকে পাশে থাকার জন্য কক্সবাজার সার্ফিং কমিউনিটির প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
টিওমান ওজি হিশাম উয়ুবের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় জুয়ারা বিচ ও মেনতাওয়াক পয়েন্টের মতো কঠিন স্পটে ঢেউয়ের উচ্চতা ও গতিবেগ ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এমন প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের প্রতিনিধির এই পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সার্ফিং সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
কক্সবাজারের ঢেউয়ে বেড়ে ওঠা ইউনুস হোসেন প্রমাণ করেছেন, সঠিক সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশের সার্ফাররাও বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। এবারের প্রতিযোগিতায় ভাগ্য সহায় না হলেও তার লড়াকু মানসিকতা দেশের ভবিষ্যৎ সার্ফারদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাস ডেস্ক 

















