Dhaka , Thursday, 24 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

আঞ্চলিক ভাষার গোলকধাঁধায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি কর্মীরা

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য কোরিয়ান ভাষা শেখাই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, ভাষা শেখার চেয়েও আঞ্চলিক উপভাষা বা ‘সাতুরি’ তাদের জন্য আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন অদক্ষ বিদেশি কর্মীর মধ্যে অন্তত ৬ জন স্থানীয় উপভাষার কারণে কর্মক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন।

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য কোরিয়া টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মীদের জন্য কোরিয়ান ভাষা আয়ত্ত করা কেবল অর্ধেক লড়াইয়ের সমান। বাকি অর্ধেক লড়াই হলো বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষা এবং জটিল সম্মানসূচক সম্বোধন বা ভাষারীতি বুঝে নেওয়া।

 

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশি কর্মী কোরিয়ার আঞ্চলিক ভাষাগত ভিন্নতার কারণে কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়ছেন। হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস অফ কোরিয়া (এইচআরডিকে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১ হাজার ৬৭ জন ই-৯ ভিসাধারী বিদেশি কর্মীর ওপর জরিপ চালানো হয়।

 

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩.৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, তারা আঞ্চলিক উপভাষা বুঝতে হিমশিম খান। পাশাপাশি ৬০.৪ শতাংশ কর্মীর মতে, কোরিয়ান ভাষার জটিল ‘অনারিফিক’ বা সম্মানসূচক ব্যাকরণ তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে কোরিয়ায় প্রধানত পাঁচটি আঞ্চলিক উপভাষা প্রচলিত—সিউল, গাংওয়ান, চুংচেওং, জিয়ংসাং ও জিওল্লা। এর বাইরে জেজু দ্বীপের ভাষা এতটাই ভিন্ন যে অনেক ভাষাবিদ একে স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবেই বিবেচনা করেন।

 

এ ছাড়া বয়স ও সামাজিক মর্যাদাভেদে সম্মান প্রদর্শনের জটিল ব্যাকরণগত নিয়ম বিদেশি কর্মীদের জন্য ভাষা ব্যবহারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা কেবল কল্যাণমূলক উদ্যোগ নয়; বরং শিল্প দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ, কর্মক্ষেত্রে ৮৮ শতাংশ যোগাযোগই হয় কোরিয়ান ভাষায়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইপিএস-টপিক পরীক্ষায় মূলত পড়া ও শোনার দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, ফলে কথা বলার অনুশীলনে ঘাটতি থেকে যায়। তাই ভবিষ্যতে এই পরীক্ষায় ‘স্পিকিং অ্যাসেসমেন্ট’ বা কথা বলার দক্ষতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

আঞ্চলিক ভাষার গোলকধাঁধায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি কর্মীরা

আপডেট টাইম : 12:24:59 am, Thursday, 29 January 2026

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য কোরিয়ান ভাষা শেখাই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, ভাষা শেখার চেয়েও আঞ্চলিক উপভাষা বা ‘সাতুরি’ তাদের জন্য আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন অদক্ষ বিদেশি কর্মীর মধ্যে অন্তত ৬ জন স্থানীয় উপভাষার কারণে কর্মক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন।

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য কোরিয়া টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মীদের জন্য কোরিয়ান ভাষা আয়ত্ত করা কেবল অর্ধেক লড়াইয়ের সমান। বাকি অর্ধেক লড়াই হলো বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষা এবং জটিল সম্মানসূচক সম্বোধন বা ভাষারীতি বুঝে নেওয়া।

 

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশি কর্মী কোরিয়ার আঞ্চলিক ভাষাগত ভিন্নতার কারণে কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়ছেন। হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস অফ কোরিয়া (এইচআরডিকে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১ হাজার ৬৭ জন ই-৯ ভিসাধারী বিদেশি কর্মীর ওপর জরিপ চালানো হয়।

 

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩.৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, তারা আঞ্চলিক উপভাষা বুঝতে হিমশিম খান। পাশাপাশি ৬০.৪ শতাংশ কর্মীর মতে, কোরিয়ান ভাষার জটিল ‘অনারিফিক’ বা সম্মানসূচক ব্যাকরণ তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে কোরিয়ায় প্রধানত পাঁচটি আঞ্চলিক উপভাষা প্রচলিত—সিউল, গাংওয়ান, চুংচেওং, জিয়ংসাং ও জিওল্লা। এর বাইরে জেজু দ্বীপের ভাষা এতটাই ভিন্ন যে অনেক ভাষাবিদ একে স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবেই বিবেচনা করেন।

 

এ ছাড়া বয়স ও সামাজিক মর্যাদাভেদে সম্মান প্রদর্শনের জটিল ব্যাকরণগত নিয়ম বিদেশি কর্মীদের জন্য ভাষা ব্যবহারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা কেবল কল্যাণমূলক উদ্যোগ নয়; বরং শিল্প দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ, কর্মক্ষেত্রে ৮৮ শতাংশ যোগাযোগই হয় কোরিয়ান ভাষায়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইপিএস-টপিক পরীক্ষায় মূলত পড়া ও শোনার দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, ফলে কথা বলার অনুশীলনে ঘাটতি থেকে যায়। তাই ভবিষ্যতে এই পরীক্ষায় ‘স্পিকিং অ্যাসেসমেন্ট’ বা কথা বলার দক্ষতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।