Dhaka , Thursday, 26 February 2026
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ মালয়েশিয়ায় ধর্মঘট করায় ১৭২ বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরিচ্যুত

‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর দাবি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের প্রস্তাব দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে দেশের বাইরে অবস্থানরত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা তাদের জন্য আলাদা একটি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর দাবি জানিয়েছেন।

 

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের কাছেই তারা এই দাবি তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি)-এর কার্যক্রম আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

প্রবাসীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার পিএলকেএস-এর তথ্য অনুযায়ী বৈধ প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় আট লাখ। নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা খাত, প্ল্যান্টেশন, কৃষি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত এসব প্রবাসী বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

 

নানা সমস্যা, শোষণ ও হয়রানির মধ্যেও তারা শ্রমঘামের অর্থ দেশে পাঠিয়ে যাচ্ছেন। তবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া—উভয় দেশেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রবাসী শ্রমিকরা নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হলেও কার্যকর সহায়তা পান না বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

কুয়ালালামপুরের শাহ আলম এলাকায় কর্মরত চাঁদপুর-৩ আসনের ভোটার শাহজালাল মৃধা ও মোস্তফা কামাল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুনকা গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় মিয়া বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি করাও সহজ হবে। তবে প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রবাসী কার্ড চালু করা জরুরি।

 

মোস্তফা কামাল বলেন, “আমরা দেশে গেলে বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হই, আবার বিদেশে আসতে গিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের প্রতারণা সহ্য করতে হয়। তবুও কষ্ট করে রেমিট্যান্স পাঠাই। প্রবাসী কার্ড থাকলে দেশে বা বিদেশে বিপদে পড়লে অন্তত পরিচয়ের ভিত্তিতে সহযোগিতা পাওয়া যাবে।”

 

হৃদয় মিয়া বলেন, “প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কোনো সরকারই যথেষ্ট সোচ্চার নয়। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা হলে আমরা সম্মানিত বোধ করব এবং আরও উৎসাহ নিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারব।”

 

মালয়েশিয়া বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজি সালাহ উদ্দিন বলেন, “অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন কাজ করে দেশে ফিরে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। বিষয়টি আমরা হাইকমিশনকে জানিয়েছি। সরকারে গেলে দল এই উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশাবাদী।”

 

অন্যদিকে মালয়েশিয়া ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ড. এনামুল হক বলেন, “বর্তমানে ইপিএসের আওতায় বিএমইটি একটি সরকার স্বীকৃত প্রবাসী পরিচয়পত্র প্রদান করে, যেখানে নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও কল্যাণ সেবার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে এটি পেতে নানা ধাপে হয়রানির শিকার হতে হয়। এই কার্ডকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করা অথবা আলাদা প্রবাসী কার্ড চালু করলেই প্রবাসীরা প্রকৃত সুফল পাবেন।”

 

উল্লেখ্য, রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও প্রবাসীরা এখনো পরিচয়, সুরক্ষা ও সম্মানজনক সেবার অভাবে ভুগছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কার্ড এখন কেবল একটি দাবি নয়, বরং সময়ের বাস্তব প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির

‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর দাবি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের

আপডেট টাইম : 12:07:56 am, Thursday, 29 January 2026

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের প্রস্তাব দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে দেশের বাইরে অবস্থানরত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা তাদের জন্য আলাদা একটি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর দাবি জানিয়েছেন।

 

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের কাছেই তারা এই দাবি তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি)-এর কার্যক্রম আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

প্রবাসীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার পিএলকেএস-এর তথ্য অনুযায়ী বৈধ প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় আট লাখ। নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা খাত, প্ল্যান্টেশন, কৃষি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত এসব প্রবাসী বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

 

নানা সমস্যা, শোষণ ও হয়রানির মধ্যেও তারা শ্রমঘামের অর্থ দেশে পাঠিয়ে যাচ্ছেন। তবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া—উভয় দেশেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রবাসী শ্রমিকরা নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হলেও কার্যকর সহায়তা পান না বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

কুয়ালালামপুরের শাহ আলম এলাকায় কর্মরত চাঁদপুর-৩ আসনের ভোটার শাহজালাল মৃধা ও মোস্তফা কামাল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুনকা গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় মিয়া বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি করাও সহজ হবে। তবে প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রবাসী কার্ড চালু করা জরুরি।

 

মোস্তফা কামাল বলেন, “আমরা দেশে গেলে বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হই, আবার বিদেশে আসতে গিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের প্রতারণা সহ্য করতে হয়। তবুও কষ্ট করে রেমিট্যান্স পাঠাই। প্রবাসী কার্ড থাকলে দেশে বা বিদেশে বিপদে পড়লে অন্তত পরিচয়ের ভিত্তিতে সহযোগিতা পাওয়া যাবে।”

 

হৃদয় মিয়া বলেন, “প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কোনো সরকারই যথেষ্ট সোচ্চার নয়। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা হলে আমরা সম্মানিত বোধ করব এবং আরও উৎসাহ নিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারব।”

 

মালয়েশিয়া বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজি সালাহ উদ্দিন বলেন, “অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন কাজ করে দেশে ফিরে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। বিষয়টি আমরা হাইকমিশনকে জানিয়েছি। সরকারে গেলে দল এই উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশাবাদী।”

 

অন্যদিকে মালয়েশিয়া ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ড. এনামুল হক বলেন, “বর্তমানে ইপিএসের আওতায় বিএমইটি একটি সরকার স্বীকৃত প্রবাসী পরিচয়পত্র প্রদান করে, যেখানে নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও কল্যাণ সেবার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে এটি পেতে নানা ধাপে হয়রানির শিকার হতে হয়। এই কার্ডকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করা অথবা আলাদা প্রবাসী কার্ড চালু করলেই প্রবাসীরা প্রকৃত সুফল পাবেন।”

 

উল্লেখ্য, রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও প্রবাসীরা এখনো পরিচয়, সুরক্ষা ও সম্মানজনক সেবার অভাবে ভুগছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কার্ড এখন কেবল একটি দাবি নয়, বরং সময়ের বাস্তব প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।