Dhaka , Thursday, 26 February 2026
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ মালয়েশিয়ায় ধর্মঘট করায় ১৭২ বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরিচ্যুত

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি

বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।

 

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। জাপানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব নতুন উচ্চতায় উন্নীত হলো।

 

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে উভয় পক্ষের নিবিড় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন, যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দূরদর্শী ও কার্যকর কূটনীতির ফসল। এই চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতি রেখে সম্পাদিত হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অধিগ্রহণ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে।

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

চুক্তির বিষয়ে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চুক্তিটি বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষাসহ যৌথভাবে নির্ধারিত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

 

চুক্তিটিতে প্রতিটি সুনির্দিষ্ট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নির্ধারণ ও নিশ্চিত করার পদ্ধতি এবং হস্তান্তরিত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মৌলিক নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জাপান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে হস্তান্তরিত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে; বিশেষ করে তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে এসবের হস্তান্তর বা নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার রোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 

জাপান আশা প্রকাশ করে যে, এই চুক্তির ফলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও নিবিড় হবে। একইসঙ্গে এটি দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত ভিত্তি বজায় রাখতে এবং এর মানোন্নয়নে সহায়তা করবে, যা জাপানের জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা মনে করছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি

আপডেট টাইম : 01:08:45 am, Wednesday, 4 February 2026

বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।

 

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। জাপানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব নতুন উচ্চতায় উন্নীত হলো।

 

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে উভয় পক্ষের নিবিড় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন, যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দূরদর্শী ও কার্যকর কূটনীতির ফসল। এই চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতি রেখে সম্পাদিত হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অধিগ্রহণ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে।

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

চুক্তির বিষয়ে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চুক্তিটি বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষাসহ যৌথভাবে নির্ধারিত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

 

চুক্তিটিতে প্রতিটি সুনির্দিষ্ট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নির্ধারণ ও নিশ্চিত করার পদ্ধতি এবং হস্তান্তরিত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মৌলিক নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জাপান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে হস্তান্তরিত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে; বিশেষ করে তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে এসবের হস্তান্তর বা নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার রোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 

জাপান আশা প্রকাশ করে যে, এই চুক্তির ফলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও নিবিড় হবে। একইসঙ্গে এটি দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত ভিত্তি বজায় রাখতে এবং এর মানোন্নয়নে সহায়তা করবে, যা জাপানের জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা মনে করছে।