মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এ বিষয়ে আরও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত এক দিনের এই আলোচনা মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হয়। আলোচনায় উভয় পক্ষই সংঘাত এড়িয়ে ‘ইতিবাচক পরিবেশ’ বজায় রেখেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইরানও আলোচনার পরিবেশের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীসহ নৌবহর অবস্থান করলেও ওমানের মধ্যস্থতায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল মাস্কাটে আলোচনা করে। তবে তারা প্রকাশ্যে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে বসেনি।
আলোচনা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাহাজ পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে আলোচনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার পর এই দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে এটিই প্রথম আলোচনা।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ইরানের বিষয়ে আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আমরা আবার বৈঠক করব।”
তবে ওয়াশিংটন নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বললে ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয়। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “যদি তারা কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে পরিণতি খুবই ভয়াবহ হবে।”
মাস্কাটে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বদানকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, আলোচনা একান্তভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই কেন্দ্রীভূত ছিল। পশ্চিমা দেশগুলো এই কর্মসূচিকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলেও তেহরান দাবি করছে, এটি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং তারা এ অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল—যাদের নেতৃত্ব দেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার—চেয়েছিল ইরানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি আচরণকেও আলোচনার এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করতে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে আব্বাস আরাকচি বলেন, ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি একে ‘ভালো সূচনা’ উল্লেখ করে বলেন, উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন হুমকি ও চাপের নীতি থেকে সরে আসবে, যাতে আলোচনা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















