মালয়েশিয়ার দুই রাজ্যে পৃথক অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ৭৭ জন প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, সেলাঙ্গর রাজ্যের তেলোক পাংলিমা গারাং এলাকার একটি পাম অয়েল বাগানের ভেতরে অবস্থিত দুর্গম গুদামে চীন থেকে আমদানি করা পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও মোড়কজাত করার অভিযোগে ২৪ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করা হয়।
বুধবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখা পরিচালিত এক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
অভিবাসন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—চীনের দুই নাগরিক, বাংলাদেশের নয়জন, ভারতের দুইজন, মিয়ানমারের ১০ জন (দুই পুরুষ ও আট নারী) এবং কম্বোডিয়ার একজন নারী।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক চীনা নাগরিকদের দুজন তাদের বৈধ পাসের অপব্যবহার করেছেন। দুই বাংলাদেশি নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করছিলেন এবং বাকিরা কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ছাড়াই মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
অভিযানকালে কর্তৃপক্ষ তিনটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি মিয়ানমার পাসপোর্ট, দুটি চীনা পাসপোর্ট, একটি কম্বোডিয়ান পাসপোর্ট এবং একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি জব্দ করে। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি এই অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
জাকারিয়া শাবান জানান, গুদামটি অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে অর্ডার করা চীনা পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও মোড়কজাত করে গ্রাহকের কাছে পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পাম অয়েল বাগানের ভেতরে কোনো সাইনবোর্ড ছাড়াই এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।
তিনি আরও জানান, আটক চীনা নাগরিকদের একজন অবৈধ ওয়ার্ক পারমিটবিহীন বিদেশিদের কাজে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, কার্যক্রমটি প্রায় ছয় মাস ধরে চলছিল।
এ ঘটনায় ইমিগ্রেশন আইন ১৯৬৩-এর বিধি ৩৯(খ), ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৫বি ধারা, ১৫(৪) ধারা ও ৬(৩) ধারায় তদন্ত চলছে। আটক সকলকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন অফিসে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তদন্তে সহায়তার জন্য তিনজন স্থানীয় নাগরিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সাবাহ রাজ্যের কোটা কিনাবালু ও তুয়ারান এলাকায় দুই দিনব্যাপী পরিচালিত ‘অপস কুটিপ’ ও ‘অপস সাপু’ অভিযানে আরও ৫৩ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।
২ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে কোটা কিনাবালু অভিবাসন সদর দপ্তরের ৬১ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন। এ সময় মোট ১৭৭ জনকে তল্লাশি করা হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, আটক ৫৩ জনই ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৬(১)(গ) ধারা লঙ্ঘন করেছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারী রয়েছেন এবং সবাই ফিলিপাইনের নাগরিক।
সাবাহ রাজ্য অভিবাসন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, অবৈধ অভিবাসন দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক ও সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

প্রবাস ডেস্ক 



















