মালয়েশিয়ার উচ্চ আদালত এক বাংলাদেশি নাগরিকের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। অভিবাসন বিভাগের অভিযানের সময় জব্দ হওয়া ৭ লাখ ২৩ হাজার রিঙ্গিত মালয়েশিয়ার সরকারি কোষাগারে জমা রাখার নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি দাতুক আজমি আরিফিনের সভাপতিত্বে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে সালমান আহমাদ চৌধুরী (৩২) নামে ওই প্রবাসীর আপিল আবেদন বাতিল করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি দাতুক হায়াতুল আকমাল আবদুল আজিজ ও দাতুক মেওর হাশিমি আবদুল হামিদ।
রায়ে বিচারপতি হায়াতুল আকমাল বলেন, নিম্ন আদালত অর্থ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিতে কোনো আইনি ভুল করেনি। জব্দকৃত অর্থের সঙ্গে সংঘটিত অপরাধের সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে। আদালত আরও উল্লেখ করেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ওই বিপুল অঙ্কের অর্থের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে পারেননি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক অভিযানে সালমানের কাছ থেকে একাধিক বিদেশি পাসপোর্ট এবং একটি সেফ বক্সে সংরক্ষিত ৭ লাখ ২৩ হাজার রিঙ্গিত নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
সালমান পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে মালয়েশিয়ায় কাজের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে তিনি সেই শর্ত ভঙ্গ করে অন্য খাতে কাজ করছিলেন বলে প্রমাণিত হয়। এর আগে তাকে ৪০০ রিঙ্গিত জরিমানা এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
২০২৫ সালের মে মাসে নিম্ন আদালতের বাজেয়াপ্তের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সালমান। কিন্তু আদেশ জারির এক বছরেরও বেশি সময় পর আবেদন করায় তা খারিজ করা হয়। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেটিও নাকচ হয়।
এদিকে, সালমানের নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালায়েন্স এসডিএন বিএইচডি’-কে অবৈধ কর্মী নিয়োগের দায়ে এর আগে ১০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছিল।
উচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ এখন মালয়েশিয়া সরকারের স্থায়ী সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।

প্রবাস ডেস্ক 



















