রমজান মাসকে সামনে রেখে অবৈধ অভিবাসী ও তাদের নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান জোরদার করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে ৬ হাজার ২০০ জন অবৈধ প্রবাসী এবং ২৩০ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান আফেন্দি রামলী জানান, এই সময়ে সারাদেশে প্রায় ২৭ হাজার বিদেশি নাগরিককে তল্লাশি করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭০০টি পৃথক অভিযানের মাধ্যমে এসব তল্লাশি ও আটক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও চীনের নাগরিক। লোকমান আফেন্দি বলেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী কিংবা কাজের অনুমতির শর্ত ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের কাজাং এলাকার সুংগাই লংয়ের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্রে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া ওই অভিযানে ২২৫ জন বিদেশি ও ২৩৮ জন স্থানীয় নাগরিককে যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৪০ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী, যাদের অধিকাংশই মিয়ানমারের নাগরিক। অভিযানের সময় কয়েকজনকে রেস্টুরেন্টে কাজ করার অবস্থায় হাতেনাতে ধরা হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, আটকদের কেউ কেউ প্ল্যান্টেশন বা বাগান খাতে কাজের অনুমতিপত্র থাকলেও বাস্তবে তারা খাদ্য ও রেস্টুরেন্ট খাতে কর্মরত ছিলেন। কর্তৃপক্ষের মতে, এটি কাজের পারমিটের অপব্যবহার এবং মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আসন্ন রমজান মাসকে ঘিরে বাজার ও বিশেষ করে রমজান বাজারগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। লোকমান আফেন্দি রামলী সতর্ক করে বলেন, রমজানে কোনো বিদেশি নাগরিক যেন অবৈধভাবে স্টল পরিচালনা বা অন্যের পারমিট ব্যবহার করে ব্যবসা চালাতে না পারে—তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স মাঠে থাকবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন, পারমিট বাণিজ্য ও আইন অমান্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু অবৈধ কর্মী নয়, তাদের আশ্রয়দাতা ও সুবিধাভোগীরাও আইনের আওতায় আসবেন। কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বার্তা—মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে হলে অবশ্যই আইন মেনে চলতে হবে।

প্রবাস ডেস্ক 



















