Dhaka , Thursday, 26 February 2026
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ মালয়েশিয়ায় ধর্মঘট করায় ১৭২ বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরিচ্যুত

২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ভিজিটর ভিসা ই–ভিসায় রূপান্তর করছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ভিজিটর ভিসা সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ‘ই–ভিসা’ হিসেবে দেওয়া হবে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় Home Office।

 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে ভিজিটর ভিসা প্রয়োজন হবে, তারা আর পাসপোর্টে ভিসা স্টিকার, বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিট (বিআরপি) বা হাতে দেওয়া ইমিগ্রেশন সিল পাবেন না। এর পরিবর্তে ভিসা সংক্রান্ত সব তথ্য অনলাইনে সংরক্ষিত থাকবে এবং তা যুক্ত থাকবে UK Visas and Immigration (ইউকেভিআই)-এর ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে।

 

এই উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের বৃহত্তর ডিজিটাল বর্ডার কর্মসূচির অংশ। এর আওতায় ইতোমধ্যে অভিবাসীদের জন্য প্রচলিত বিআরপি কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভিসামুক্ত দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের জন্য ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) চালু করা হচ্ছে।

 

ই–ভিসা চালু হলে বিমানসংস্থা, ফেরি ও রেল অপারেটররা যাত্রীর ভিসা অনুমোদন, কাজ বা পড়াশোনার অনুমতি এবং অবস্থানের শর্তাবলি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারবে। এ লক্ষ্যে গত এক বছরে পরিবহন সংস্থাগুলো তাদের চেক-ইন সিস্টেম নতুন ‘ক্যারিয়ার চেক এপিআই’-এর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

 

নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীদের পাসপোর্ট অবশ্যই ইউকেভিআই অনলাইন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। অন্যথায় বোর্ডিং অনুমতি না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যমান ভিসাধারীদের এসএমএস ও ইমেইলের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

 

অভিবাসন আইনজীবীরা বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির ঝুঁকি থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা ভ্রমণের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে লগইন করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

এই পরিবর্তনের ফলে ভিসা স্টিকারের মেয়াদসংক্রান্ত জটিলতা কমলেও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব তৈরি হবে। মানবসম্পদ বিভাগকে কর্মীদের ইউকেভিআই অ্যাকাউন্ট সক্রিয় আছে কিনা, পাসপোর্ট তথ্য হালনাগাদ হয়েছে কিনা এবং ‘রাইট টু ওয়ার্ক’ যাচাইয়ের জন্য শেয়ার কোড তৈরি করা যাচ্ছে কিনা—তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

ইউকেভিআই কর্তৃপক্ষের দাবি, ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং জালিয়াতি কমবে। তবে তথ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কেউ ভুলভাবে বোর্ডিং থেকে বঞ্চিত হলে দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নতুন ব্যবস্থা চালুর প্রথম কয়েক মাস ভ্রমণকারীরা যেন ভিসা অনুমোদনের ইমেইল বা শেয়ার কোডের স্ক্রিনশট সঙ্গে রাখেন, যাতে প্রয়োজনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে তা দেখানো যায়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির

২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ভিজিটর ভিসা ই–ভিসায় রূপান্তর করছে যুক্তরাজ্য

আপডেট টাইম : 09:45:08 pm, Sunday, 15 February 2026

যুক্তরাজ্যের ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ভিজিটর ভিসা সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ‘ই–ভিসা’ হিসেবে দেওয়া হবে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় Home Office।

 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে ভিজিটর ভিসা প্রয়োজন হবে, তারা আর পাসপোর্টে ভিসা স্টিকার, বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিট (বিআরপি) বা হাতে দেওয়া ইমিগ্রেশন সিল পাবেন না। এর পরিবর্তে ভিসা সংক্রান্ত সব তথ্য অনলাইনে সংরক্ষিত থাকবে এবং তা যুক্ত থাকবে UK Visas and Immigration (ইউকেভিআই)-এর ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে।

 

এই উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের বৃহত্তর ডিজিটাল বর্ডার কর্মসূচির অংশ। এর আওতায় ইতোমধ্যে অভিবাসীদের জন্য প্রচলিত বিআরপি কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভিসামুক্ত দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের জন্য ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) চালু করা হচ্ছে।

 

ই–ভিসা চালু হলে বিমানসংস্থা, ফেরি ও রেল অপারেটররা যাত্রীর ভিসা অনুমোদন, কাজ বা পড়াশোনার অনুমতি এবং অবস্থানের শর্তাবলি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারবে। এ লক্ষ্যে গত এক বছরে পরিবহন সংস্থাগুলো তাদের চেক-ইন সিস্টেম নতুন ‘ক্যারিয়ার চেক এপিআই’-এর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

 

নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীদের পাসপোর্ট অবশ্যই ইউকেভিআই অনলাইন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। অন্যথায় বোর্ডিং অনুমতি না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যমান ভিসাধারীদের এসএমএস ও ইমেইলের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

 

অভিবাসন আইনজীবীরা বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির ঝুঁকি থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা ভ্রমণের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে লগইন করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

এই পরিবর্তনের ফলে ভিসা স্টিকারের মেয়াদসংক্রান্ত জটিলতা কমলেও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব তৈরি হবে। মানবসম্পদ বিভাগকে কর্মীদের ইউকেভিআই অ্যাকাউন্ট সক্রিয় আছে কিনা, পাসপোর্ট তথ্য হালনাগাদ হয়েছে কিনা এবং ‘রাইট টু ওয়ার্ক’ যাচাইয়ের জন্য শেয়ার কোড তৈরি করা যাচ্ছে কিনা—তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

ইউকেভিআই কর্তৃপক্ষের দাবি, ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং জালিয়াতি কমবে। তবে তথ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কেউ ভুলভাবে বোর্ডিং থেকে বঞ্চিত হলে দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নতুন ব্যবস্থা চালুর প্রথম কয়েক মাস ভ্রমণকারীরা যেন ভিসা অনুমোদনের ইমেইল বা শেয়ার কোডের স্ক্রিনশট সঙ্গে রাখেন, যাতে প্রয়োজনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে তা দেখানো যায়।