ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা এবং লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে পৃথক হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। রোববার এসব হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই প্রাণঘাতী এ ঘটনাগুলো ঘটল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তর গাজার একটি তাবু শিবিরে বিমান হামলায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক হামলায় আরও পাঁচজন প্রাণ হারান।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানায়, উত্তর গাজার শরণার্থী অধ্যুষিত এলাকায় চালানো হামলায় নারী ও শিশুসহ একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আল-শিফা হাসপাতালের সূত্র জানায়, বিমান হামলার পাশাপাশি গোলাগুলির ঘটনায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হামাসের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হেনেছে। আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে বেরিয়ে আসা একটি সুড়ঙ্গের আশপাশে অবস্থানরত যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬০০ জন নিহত হয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতেও গাজাজুড়ে বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটে।
এদিকে লেবানন-সিরিয়া সীমান্তেও পৃথক ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এসব প্রাণহানি ঘটে। সোমবার ভোরে এ হামলা হয়।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন সিরীয় নাগরিক, খালেদ মোহাম্মদ আল-আহমদ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা লেবাননে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে)-এর সদস্যদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাজদাল আঞ্জার এলাকায় চালানো এই হামলার বিষয়ে পিআইজে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সাম্প্রতিক এসব হামলা এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত এ সংস্থাটি গাজার সীমান্ত নিরাপত্তা, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে জানান, বোর্ডের সদস্যরা গাজার পুনর্গঠনে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তার অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে এগিয়ে আসার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। হামাস আগেই জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৮২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বড় অংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















