Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পলাশ-শিমুলের রঙে রাঙানো এই দিনে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে সেইসব বীর সন্তানদের, যারা ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। একুশের চেতনায় আজও উচ্চারিত হচ্ছে কালজয়ী গান— “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?”

 

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ইতিহাসের এক উত্তাল অধ্যায়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নামলে তৎকালীন পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। সেই গুলিবর্ষণে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। ভাষার জন্য প্রাণদানের এই ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। আজ সেই গৌরবোজ্জ্বল ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো।

 

শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে ইউনেস্কো। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে ১৮৮টি দেশের সমর্থনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ২০০০ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। আরও পরে ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিবছর পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

 

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অমর একুশে উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রভাতফেরি, কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

 

বাঙালি জাতির জন্য একুশে ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে শোকের ও গৌরবের দিন। ভাষা শহীদদের স্মরণে আজ জাতি মাথা নত করছে গভীর শ্রদ্ধায়, পাশাপাশি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও চর্চা আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করছে।

 

দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার সরকারি ছুটি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

আপডেট টাইম : 11:41:03 am, Saturday, 21 February 2026

রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পলাশ-শিমুলের রঙে রাঙানো এই দিনে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে সেইসব বীর সন্তানদের, যারা ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। একুশের চেতনায় আজও উচ্চারিত হচ্ছে কালজয়ী গান— “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?”

 

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ইতিহাসের এক উত্তাল অধ্যায়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নামলে তৎকালীন পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। সেই গুলিবর্ষণে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। ভাষার জন্য প্রাণদানের এই ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। আজ সেই গৌরবোজ্জ্বল ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো।

 

শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে ইউনেস্কো। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে ১৮৮টি দেশের সমর্থনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ২০০০ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। আরও পরে ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিবছর পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

 

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অমর একুশে উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রভাতফেরি, কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

 

বাঙালি জাতির জন্য একুশে ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে শোকের ও গৌরবের দিন। ভাষা শহীদদের স্মরণে আজ জাতি মাথা নত করছে গভীর শ্রদ্ধায়, পাশাপাশি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও চর্চা আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করছে।

 

দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার সরকারি ছুটি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।