Dhaka , Thursday, 26 February 2026
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ মালয়েশিয়ায় ধর্মঘট করায় ১৭২ বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরিচ্যুত

ইতালির স্পন্সর ভিসা:‘ক্লিক ডে’ ত্রুটিতে মিলছে না ভিসা, বাড়ছে অবৈধ শ্রমিক

ইতালির স্পন্সর ভিসা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক জটিলতা ও তথাকথিত ‘ক্লিক ডে’ পদ্ধতির ত্রুটির কারণে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক বৈধতা হারিয়ে অবৈধ অবস্থায় পড়ছেন। দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে উপস্থাপিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

 

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রতি বছর নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণ করে স্পন্সর ভিসার মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিক গ্রহণ করে ইতালি সরকার। তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ঘোষিত কোটার তুলনায় চূড়ান্ত অনুমোদনের হার অত্যন্ত কম। ফলে অনেক শ্রমিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বৈধ আবাসন ও কাজের অনুমতি পাচ্ছেন না।

 

সিনেটে উপস্থাপিত ‘এরো স্ত্রানিয়েরো’ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে স্পন্সর ভিসার আওতায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫০ জন শ্রমিক নেওয়ার কোটা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বৈধভাবে থাকার অনুমোদন পান মাত্র ২৪ হাজার ৮৫৮ জন। এতে অনুমোদনের হার দাঁড়ায় মাত্র ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

 

পরবর্তী বছর ২০২৫ সালে কোটা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৫০ নির্ধারণ করা হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। ওই বছরে অনুমোদন পেয়েছেন মাত্র ১৪ হাজার ৩৪৯ জন শ্রমিক, যা মোট কোটার মাত্র ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির অর্থনীতিতে বিদেশি শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও জটিল ও দীর্ঘসূত্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে অবৈধ অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে শ্রমিকরা যেমন ঝুঁকিতে পড়ছেন, তেমনি রাষ্ট্রও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব ও নিয়ন্ত্রিত শ্রমবাজার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

ইতালিতে বসবাসরত নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, বর্তমান স্পন্সর ভিসা ব্যবস্থায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা শ্রমিকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সরকারের প্রতি ভিসা ও আবাসন অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই জটিলতা দূর না হলে অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যা আরও বাড়বে।

 

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ কেবল অভিবাসন ইস্যু নয়; এটি ইতালির অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী কোটা নির্ধারণ, আবেদন প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল ও দ্রুত করা, মৌসুমি শ্রমিকদের জন্য আলাদা কাঠামো গড়ে তোলা এবং শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির

ইতালির স্পন্সর ভিসা:‘ক্লিক ডে’ ত্রুটিতে মিলছে না ভিসা, বাড়ছে অবৈধ শ্রমিক

আপডেট টাইম : 09:06:57 am, Sunday, 22 February 2026

ইতালির স্পন্সর ভিসা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক জটিলতা ও তথাকথিত ‘ক্লিক ডে’ পদ্ধতির ত্রুটির কারণে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক বৈধতা হারিয়ে অবৈধ অবস্থায় পড়ছেন। দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে উপস্থাপিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

 

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রতি বছর নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণ করে স্পন্সর ভিসার মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিক গ্রহণ করে ইতালি সরকার। তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ঘোষিত কোটার তুলনায় চূড়ান্ত অনুমোদনের হার অত্যন্ত কম। ফলে অনেক শ্রমিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বৈধ আবাসন ও কাজের অনুমতি পাচ্ছেন না।

 

সিনেটে উপস্থাপিত ‘এরো স্ত্রানিয়েরো’ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে স্পন্সর ভিসার আওতায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫০ জন শ্রমিক নেওয়ার কোটা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বৈধভাবে থাকার অনুমোদন পান মাত্র ২৪ হাজার ৮৫৮ জন। এতে অনুমোদনের হার দাঁড়ায় মাত্র ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

 

পরবর্তী বছর ২০২৫ সালে কোটা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৫০ নির্ধারণ করা হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। ওই বছরে অনুমোদন পেয়েছেন মাত্র ১৪ হাজার ৩৪৯ জন শ্রমিক, যা মোট কোটার মাত্র ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির অর্থনীতিতে বিদেশি শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও জটিল ও দীর্ঘসূত্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে অবৈধ অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে শ্রমিকরা যেমন ঝুঁকিতে পড়ছেন, তেমনি রাষ্ট্রও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব ও নিয়ন্ত্রিত শ্রমবাজার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

ইতালিতে বসবাসরত নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, বর্তমান স্পন্সর ভিসা ব্যবস্থায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা শ্রমিকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সরকারের প্রতি ভিসা ও আবাসন অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই জটিলতা দূর না হলে অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যা আরও বাড়বে।

 

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ কেবল অভিবাসন ইস্যু নয়; এটি ইতালির অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী কোটা নির্ধারণ, আবেদন প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল ও দ্রুত করা, মৌসুমি শ্রমিকদের জন্য আলাদা কাঠামো গড়ে তোলা এবং শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।