সৌদি আরব শ্রম আইন সংশোধন করে কর্মী নিয়োগে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং ব্যত্যয়ের শাস্তি বৃদ্ধি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিলে নিয়োগকর্তাকে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী আহমেদ আল রাজি এ সিদ্ধান্ত জারি করেছেন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
নতুন সূচি অনুযায়ী, শ্রম আইনের ১৬৭ ধারা লঙ্ঘন করে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুকে কাজে নিয়োগ দেয়া গুরুতর অপরাধ। ৫০ জন বা তার বেশি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ২ হাজার রিয়াল।
কর্মীর পাসপোর্ট বা রেসিডেন্সি পারমিট (ইকামা) নিয়োগকর্তা যদি নিজের কাছে রাখেন, তাহলে প্রতিটি কর্মীর জন্য ৩ হাজার রিয়াল জরিমানা হবে। শ্রম আইনের দশম অধ্যায়ের অধীনে কিশোর-কিশোরীদের নিয়োগসংক্রান্ত বিধান না মানলে প্রতি লঙ্ঘনে ১ হাজার ৫০০ রিয়াল জরিমানা করা হবে।
নারী কর্মীদের আইনগত মাতৃত্বকালীন ছুটি না দিলে প্রতিজনের জন্য ১ হাজার রিয়াল জরিমানা আরোপ করা হবে। এছাড়া ৫০ বা তার বেশি নারী কর্মী ও অন্তত ১০ জন ছয় বছরের কম বয়সী শিশু থাকা প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার বা নার্সারি সুবিধা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এটি মানা না হলে ৩ হাজার রিয়াল জরিমানা হবে।
চাকরিচুক্তি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে নথিভুক্ত না করলে প্রতিটি কর্মীর জন্য ১ হাজার রিয়াল জরিমানা দিতে হবে। অনুমোদনহীন নিয়োগ বা রিক্রুটমেন্টে জড়িত ব্যক্তির প্রথম অপরাধে ২ লাখ রিয়াল, দ্বিতীয়বার ২ লাখ ২০ হাজার রিয়াল এবং তৃতীয়বার ২ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে।
সৌদি এই কঠোর পদক্ষেপে নিশ্চিত করতে চাইছে, শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত থাকে।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 

















