মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের বিশেষ অভিযানে ২৩ বাংলাদেশিসহ মোট ৪১ জন প্রবাসী শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার পরিচালিত এ অভিযানে সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলম শহরের সেকশন ২৩ এলাকার একটি ব্যাটারি গুদামে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে কয়েকজন শ্রমিক খালি পায়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ দৌড়াতে গিয়ে হোঁচটও খান। তবে বাইরে অপেক্ষমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে তারা ধরা পড়েন। এ সময় গুদামের ভেতরে আরও কয়েকজন বিদেশি শ্রমিক বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ও খাবার খাচ্ছিলেন।
সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক খাইররুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানান, কাগজপত্রবিহীন সন্দেহে মোট ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২৩ জন বাংলাদেশি, ৯ জন পাকিস্তানি, ৭ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ২ জন ভারতীয়।
তিনি বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ নির্মাণ ও বাগান খাতের জন্য ইস্যুকৃত ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে ব্যাটারি গুদামে কাজ করছিলেন।
আটকদের বিরুদ্ধে ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন বিধিমালার রেগুলেশন ৩৯(বি) এবং ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের ১৫(১)(সি) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। গুদামটির নিয়োগকর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে।
আটক শ্রমিকদের পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই সমন্বিত অভিযানে সকাল ১০টা থেকে কুয়ালা লাংগাট জেলার একটি বাক্স কারখানা এবং শাহ আলমের একটি লোহার গুদামেও অভিযান চালানো হয়। ওই দুই স্থানে মোট ১২১ জন বিদেশি শ্রমিকের কাগজপত্র যাচাই করে তাদের বৈধ নথিপত্র ও পাসের শর্ত অনুযায়ী কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পরিচালক খাইররুল বলেন, যারা নিয়ম মেনে শ্রমিক নিয়োগ ও নিবন্ধন করেছেন, তারা প্রশংসার দাবিদার। এটি অন্যদের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
শাহ আলমের একটি ইস্পাত কারখানায় পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, বিরতির মধ্যে কয়েকজন শ্রমিক ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ অভিযানে তারা কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেও পরে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র প্রদর্শন করেন।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 
















