Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

যুদ্ধের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার। বাংলাদেশি কর্মীদের প্রায় ৯০ শতাংশই এসব দেশে কর্মসংস্থান পেয়ে থাকেন। গত বছর শুধু সৌদি আরবেই কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ বাংলাদেশি শ্রমিকের। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ৬৫ থেকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।

 

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক কর্মী চাকরি হারাতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হয়ে আসতে পারে।

 

অভিবাসন বিশ্লেষক আসিফ মুনীর বলেন, এই পরিস্থিতিতে দুইভাবে প্রভাব পড়তে পারে—যারা নতুন করে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং যারা ইতোমধ্যে সেখানে কাজ করছেন, উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। তিনি বলেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারণের চিন্তা করা প্রয়োজন।

 

অন্যদিকে শ্রম ও অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ মনে করেন, যুদ্ধের কারণে অনেক কর্মী চাকরি হারাতে পারেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হতে পারে। এছাড়া যারা বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন, তাদের যাত্রাও বিলম্বিত হতে পারে। সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

 

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী কর্মী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অর্থ সহায়তার বিষয়টি সরকারকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।

 

আসিফ মুনীর বলেন, অনিরাপদ শহর থেকে নিরাপদ স্থানে যেতে হলে কোথায় আশ্রয় পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

 

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলোর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। কোনো কারণে কেউ চাকরি হারালে বা কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে অন্তত তাদের থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

এদিকে আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী কর্মীদের সহায়তায় সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রদূতদের প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি কর্মসংস্থান হারান, তাদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থাসহ জরুরি সহায়তার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

 

এছাড়া আটকে পড়া শ্রমিকদের ছুটি ও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার

আপডেট টাইম : 11:48:38 am, Sunday, 8 March 2026

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার। বাংলাদেশি কর্মীদের প্রায় ৯০ শতাংশই এসব দেশে কর্মসংস্থান পেয়ে থাকেন। গত বছর শুধু সৌদি আরবেই কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ বাংলাদেশি শ্রমিকের। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ৬৫ থেকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।

 

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক কর্মী চাকরি হারাতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হয়ে আসতে পারে।

 

অভিবাসন বিশ্লেষক আসিফ মুনীর বলেন, এই পরিস্থিতিতে দুইভাবে প্রভাব পড়তে পারে—যারা নতুন করে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং যারা ইতোমধ্যে সেখানে কাজ করছেন, উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। তিনি বলেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারণের চিন্তা করা প্রয়োজন।

 

অন্যদিকে শ্রম ও অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ মনে করেন, যুদ্ধের কারণে অনেক কর্মী চাকরি হারাতে পারেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হতে পারে। এছাড়া যারা বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন, তাদের যাত্রাও বিলম্বিত হতে পারে। সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

 

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী কর্মী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অর্থ সহায়তার বিষয়টি সরকারকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।

 

আসিফ মুনীর বলেন, অনিরাপদ শহর থেকে নিরাপদ স্থানে যেতে হলে কোথায় আশ্রয় পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

 

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলোর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। কোনো কারণে কেউ চাকরি হারালে বা কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে অন্তত তাদের থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

এদিকে আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী কর্মীদের সহায়তায় সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রদূতদের প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি কর্মসংস্থান হারান, তাদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থাসহ জরুরি সহায়তার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

 

এছাড়া আটকে পড়া শ্রমিকদের ছুটি ও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।