চলতি মার্চ মাসের প্রথম সাত দিনে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে এসেছে ১০৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ১ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারের সমান। এ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ কোটি ২৭ লাখ ডলার করে প্রবাসী আয় এসেছে।
রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৩৫২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই প্রবাহ প্রায় ২২ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে থাকা স্বজনদের কাছে বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে প্রবাসী আয়ে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে প্রবাসী আয় আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। জানুয়ারি মাসে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।
গত ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা ছিল দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী আয় এবং চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ। এছাড়া গত নভেম্বরে আসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরও দেখা যায়, গত অক্টোবর মাসে দেশে আসে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর আগে আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাই মাসে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে।
এদিকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 
















