প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু বিদেশে কর্মরত কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের সদস্যদের পড়তে হয় দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে। প্রশাসনিক জটিলতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ এবং সময়ক্ষেপণের কারণে স্বজনদের দুর্ভোগ প্রায়ই অসহনীয় হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে বেশি সময়সাপেক্ষ। মৃত্যু সনদ, পুলিশ রিপোর্ট, হাসপাতালের ছাড়পত্র, পাসপোর্ট যাচাই, দূতাবাসের অনুমোদন এবং বিমান পরিবহনের ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সহায়তা পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মরদেহ পাঠানোর দায়িত্ব নিতে হয় সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজনদের। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন, আর দেশে থাকা পরিবার উদ্বেগ ও অপেক্ষায় দিন কাটায়।
সম্প্রতি সৌদি আরবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী সাইফুল ইসলাম রিয়াজ। পরিবারের একমাত্র সন্তান রিয়াজ কয়েক বছর আগে সংসারের আর্থিক সংকট দূর করতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ব্যবসায়ী হিসেবে সফল হলেও তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবারকে গভীর শোকের পাশাপাশি নতুন এক সংকটে ফেলেছে।
রিয়াজের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের অভিযোগ, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করতে হচ্ছে, যা মানসিক ও আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করলেও অনেক সময় স্থানীয় আইন, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিলম্ব হয়।
ফলে বিদেশে মৃত্যুবরণ করা প্রবাসীদের পরিবারের জন্য শোকের পাশাপাশি শুরু হয় আরেকটি কঠিন সংগ্রাম—প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষ বিদায় জানানোর অপেক্ষা।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 



















