Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নাগরিককে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নয় বছর বয়সি এক শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই পরিবারের ২০ বছর বয়সি ছেলে।

 

শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোম শহরের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হৃদয়নগর এলাকার লন্ডনফেরত সিরাজ মিয়ার ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৫০), তার স্ত্রী হোসনে জাহান মমতাজ ওরফে আরজু (৪০) এবং তাদের ৯ বছর বয়সি মেয়ে আরিশা।

 

ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গলা কেটে মৃত্যু হয় ছোট্ট আরিশার। জানা গেছে, কামাল উদ্দিন বাবুল প্রায় ১২ বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমান এবং ৪-৫ বছর আগে স্ত্রী-সন্তানদের সেখানে নিয়ে যান।

 

এ হামলায় কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাবুল-আরজু দম্পতির ২০ বছর বয়সি ছেলে অয়ন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইতালির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরেও ছুরির আঘাত রয়েছে; তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল ও শঙ্কামুক্ত।

 

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাইতে যান তাদের ২০ বছর বয়সী ছেলে অয়ন। কিন্তু হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

 

প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দিলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ইতালির কারাবিনিয়ারি বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

 

ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা ও এজিআই জানিয়েছে, নিহত তিনজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তবে কী কারণে এই পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তারা। এটি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ, ডাকাতির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে; সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ওই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আগে কোনো ধরনের অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

 

এদিকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন। তদন্তের স্বার্থে ফ্ল্যাটটি ঘিরে রাখা হয়েছে। হামলাকারীর পরিচয় শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

 

রোম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান চালানো হচ্ছে।’

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরিবারের পরিচিত কেউ বা কোনো পারিবারিক বন্ধু জড়িত থাকতে পারেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি এখনো নিশ্চিত নয়, কেবল তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক। ঘাতক এখনো ধরা না পড়ায় তদন্তের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আপডেট টাইম : 09:44:18 am, Saturday, 27 June 2026

ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নাগরিককে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নয় বছর বয়সি এক শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই পরিবারের ২০ বছর বয়সি ছেলে।

 

শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোম শহরের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হৃদয়নগর এলাকার লন্ডনফেরত সিরাজ মিয়ার ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৫০), তার স্ত্রী হোসনে জাহান মমতাজ ওরফে আরজু (৪০) এবং তাদের ৯ বছর বয়সি মেয়ে আরিশা।

 

ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গলা কেটে মৃত্যু হয় ছোট্ট আরিশার। জানা গেছে, কামাল উদ্দিন বাবুল প্রায় ১২ বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমান এবং ৪-৫ বছর আগে স্ত্রী-সন্তানদের সেখানে নিয়ে যান।

 

এ হামলায় কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাবুল-আরজু দম্পতির ২০ বছর বয়সি ছেলে অয়ন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইতালির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরেও ছুরির আঘাত রয়েছে; তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল ও শঙ্কামুক্ত।

 

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাইতে যান তাদের ২০ বছর বয়সী ছেলে অয়ন। কিন্তু হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

 

প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দিলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ইতালির কারাবিনিয়ারি বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

 

ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা ও এজিআই জানিয়েছে, নিহত তিনজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তবে কী কারণে এই পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তারা। এটি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ, ডাকাতির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে; সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ওই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আগে কোনো ধরনের অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

 

এদিকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন। তদন্তের স্বার্থে ফ্ল্যাটটি ঘিরে রাখা হয়েছে। হামলাকারীর পরিচয় শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

 

রোম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান চালানো হচ্ছে।’

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরিবারের পরিচিত কেউ বা কোনো পারিবারিক বন্ধু জড়িত থাকতে পারেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি এখনো নিশ্চিত নয়, কেবল তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক। ঘাতক এখনো ধরা না পড়ায় তদন্তের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।