ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে অসংখ্য বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও ধ্বংসস্তূপের ব্যাপকতা ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার কারণে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে চলছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সর্বশেষ সরকারি হিসাবে ভূমিকম্পে ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছিলেন, প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্য পরিদর্শন করে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোমধ্যে দেশটিতে কাজ শুরু করেছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৪ জুন রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।
প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির উপকূলজুড়ে বিস্তৃত সান সেবাস্তিয়ান ফল্টে বড় ধরনের ভাঙনের কারণে এই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যার প্রভাষক ড. অ্যামি গিলিগান বলেন, এ ধরনের উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পে ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফল্ট লাইনে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজমের আওতায় স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ ও চেকিয়া বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। এছাড়া সুইজারল্যান্ড, মেক্সিকো ও এল সালভাদর থেকেও উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















