Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১৭০০ ছাড়াল

মধ্য-উত্তর ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

২৪ জুন আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ১২ হাজারের বেশি বাসিন্দা ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এখনও পুরোপুরি মেলেনি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলা সরকার ও জাতিসংঘ যৌথভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রয়োজন বিবেচনায় ১০ হাজার মরদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ (বডি ব্যাগ) সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা জানান, রবিবার (২৮ জুন) ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি দেশের দুই হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টিরও বেশি প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ৪০টি দলে বিভক্ত হয়ে দিন-রাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে দেশের সাতটি রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে লা গুয়াইরা রাজ্য এবং রাজধানী কারাকাসের ডিস্ট্রিটো ক্যাপিটাল এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

 

সামগ্রিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে জিয়ানলুকা রামপোলা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরবর্তী কম্পন এবং বিরূপ আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

 

মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার (২৯ জুন) ভোরে ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়া দুর্গত এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১৭০০ ছাড়াল

আপডেট টাইম : 08:25:32 pm, Tuesday, 30 June 2026
মধ্য-উত্তর ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

২৪ জুন আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ১২ হাজারের বেশি বাসিন্দা ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এখনও পুরোপুরি মেলেনি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলা সরকার ও জাতিসংঘ যৌথভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রয়োজন বিবেচনায় ১০ হাজার মরদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ (বডি ব্যাগ) সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা জানান, রবিবার (২৮ জুন) ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি দেশের দুই হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টিরও বেশি প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ৪০টি দলে বিভক্ত হয়ে দিন-রাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে দেশের সাতটি রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে লা গুয়াইরা রাজ্য এবং রাজধানী কারাকাসের ডিস্ট্রিটো ক্যাপিটাল এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

 

সামগ্রিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে জিয়ানলুকা রামপোলা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরবর্তী কম্পন এবং বিরূপ আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

 

মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার (২৯ জুন) ভোরে ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়া দুর্গত এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।