Dhaka , Wednesday, 23 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

ভালোবাসার নাম আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের চেনা ছবিটা বদলে যায়। শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে গ্রামের মেঠোপথ। সর্বত্র চোখে পড়ে আকাশি-সাদা পতাকা। কোনো বাড়ির ছাদে, কোনো দোকানের সামনে, আবার কোথাও পুরো একটি মহল্লাই সেজে ওঠে আর্জেন্টিনার রঙে। গভীর রাত হোক কিংবা ভোর। ঘুমকে পাশ কাটিয়ে টেলিভিশনের সামনে বসে পড়েন লাখো মানুষ। খেলা শুরু হলে নিস্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ আর গোল হলেই আনন্দে ফেটে পড়ে পুরো এলাকা।

মানচিত্রে বাংলাদেশ আর আর্জেন্টিনার দূরত্ব প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার। কিন্তু বিশ্বকাপের সময় সেই দূরত্বের অস্তিত্ব যেন আর থাকে না। মিলেমিশে একাকার হয় দুই দেশ।

 

বাংলাদেশ কখনো ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেনি। তবু আর্জেন্টিনাকে ঘিরে এ দেশের মানুষের আবেগ অনেক অংশগ্রহণকারী দেশের সমর্থকদেরও অবাক করে। প্রিয় দলের খেলা দেখতে রাত জাগা, বন্ধুদের নিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখা, জার্সি গায়ে চাপিয়ে রাস্তায় নেমে উদ্‌যাপন করা। এসব এখন বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের পরিচিত দৃশ্য। জয় এলে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। আর হারলে সেই হতাশাও ভাগাভাগি করে নেন সবাই।

 

এই ভালোবাসার শুরু আজকের নয়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয় বাংলাদেশের অসংখ্য ফুটবলপ্রেমীর মন জয় করে। এরপর ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতিও সেই আবেগকে আরও গভীর করে। সময়ের সঙ্গে সেই সমর্থন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে গেছে। বাবার কাছ থেকে ছেলে, বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ছোট ভাই। এভাবেই আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবারে।

 

এরপর আসে নতুন সময়। দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার পর ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আবারও শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। সেই জয়ের আনন্দে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নেমে আসে উৎসবের আবহ। রাতভর চলে উল্লাস, মিছিল আর আনন্দ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ভরে যায় অভিনন্দন আর উদ্‌যাপনের ছবিতে। মনে হচ্ছিল, শুধু আর্জেন্টিনা নয়, জয়টা যেন বাংলাদেশের মানুষেরও।

 

বাংলাদেশের এই ফুটবলপ্রেম বিশ্বেরও নজর কেড়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের উচ্ছ্বাস আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। এর পরের বছর, ২০২৩ সালে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ঢাকায় আবার দূতাবাস চালু করে আর্জেন্টিনা। ফুটবলকে ঘিরে দুই দেশের মানুষের এই আত্মিক সম্পর্ক তখন নতুন করেই আলোচনায় আসে।

 

ফুটবল বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু একটি খেলা নয়। এটি আনন্দ, আবেগ আর একসঙ্গে উদ্‌যাপন করার উপলক্ষ। তাই বিশ্বকাপ এলেই দেশের নানা প্রান্ত আকাশি-সাদা রঙে রাঙিয়ে ওঠে। দূরত্ব তখন আর কিলোমিটারে মাপা যায় না। মাপা যায় মানুষের ভালোবাসায়। আর সেই ভালোবাসার নাম আর্জেন্টিনা ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

ফরাসি আভিজাত্যের রাজমুকুট ও পাথরে খোদাই করা সুরের প্রাসাদ

ভালোবাসার নাম আর্জেন্টিনা

আপডেট টাইম : 04:07:35 pm, Thursday, 2 July 2026
বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের চেনা ছবিটা বদলে যায়। শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে গ্রামের মেঠোপথ। সর্বত্র চোখে পড়ে আকাশি-সাদা পতাকা। কোনো বাড়ির ছাদে, কোনো দোকানের সামনে, আবার কোথাও পুরো একটি মহল্লাই সেজে ওঠে আর্জেন্টিনার রঙে। গভীর রাত হোক কিংবা ভোর। ঘুমকে পাশ কাটিয়ে টেলিভিশনের সামনে বসে পড়েন লাখো মানুষ। খেলা শুরু হলে নিস্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ আর গোল হলেই আনন্দে ফেটে পড়ে পুরো এলাকা।

মানচিত্রে বাংলাদেশ আর আর্জেন্টিনার দূরত্ব প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার। কিন্তু বিশ্বকাপের সময় সেই দূরত্বের অস্তিত্ব যেন আর থাকে না। মিলেমিশে একাকার হয় দুই দেশ।

 

বাংলাদেশ কখনো ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেনি। তবু আর্জেন্টিনাকে ঘিরে এ দেশের মানুষের আবেগ অনেক অংশগ্রহণকারী দেশের সমর্থকদেরও অবাক করে। প্রিয় দলের খেলা দেখতে রাত জাগা, বন্ধুদের নিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখা, জার্সি গায়ে চাপিয়ে রাস্তায় নেমে উদ্‌যাপন করা। এসব এখন বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের পরিচিত দৃশ্য। জয় এলে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। আর হারলে সেই হতাশাও ভাগাভাগি করে নেন সবাই।

 

এই ভালোবাসার শুরু আজকের নয়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয় বাংলাদেশের অসংখ্য ফুটবলপ্রেমীর মন জয় করে। এরপর ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতিও সেই আবেগকে আরও গভীর করে। সময়ের সঙ্গে সেই সমর্থন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে গেছে। বাবার কাছ থেকে ছেলে, বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ছোট ভাই। এভাবেই আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবারে।

 

এরপর আসে নতুন সময়। দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার পর ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আবারও শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। সেই জয়ের আনন্দে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নেমে আসে উৎসবের আবহ। রাতভর চলে উল্লাস, মিছিল আর আনন্দ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ভরে যায় অভিনন্দন আর উদ্‌যাপনের ছবিতে। মনে হচ্ছিল, শুধু আর্জেন্টিনা নয়, জয়টা যেন বাংলাদেশের মানুষেরও।

 

বাংলাদেশের এই ফুটবলপ্রেম বিশ্বেরও নজর কেড়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের উচ্ছ্বাস আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। এর পরের বছর, ২০২৩ সালে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ঢাকায় আবার দূতাবাস চালু করে আর্জেন্টিনা। ফুটবলকে ঘিরে দুই দেশের মানুষের এই আত্মিক সম্পর্ক তখন নতুন করেই আলোচনায় আসে।

 

ফুটবল বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু একটি খেলা নয়। এটি আনন্দ, আবেগ আর একসঙ্গে উদ্‌যাপন করার উপলক্ষ। তাই বিশ্বকাপ এলেই দেশের নানা প্রান্ত আকাশি-সাদা রঙে রাঙিয়ে ওঠে। দূরত্ব তখন আর কিলোমিটারে মাপা যায় না। মাপা যায় মানুষের ভালোবাসায়। আর সেই ভালোবাসার নাম আর্জেন্টিনা ।