Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

মালয়েশিয়ায় বৈধ কাজের সুযোগ পাচ্ছেন রোহিঙ্গারা

মালয়েশিয়া সরকার বৈধভাবে কাজের অনুমতি দিলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ৩ডি (নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন) খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে প্রস্তুত দেশটির নিয়োগকর্তারা।

 

মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (এমইএফ) সভাপতি দাতুক ড. সৈয়দ হুসেইন সৈয়দ হুসমান বলেন, শ্রমিক সংকটে থাকা খাতে ইউএনএইচসিআর-নিবন্ধিত শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের সুযোগ দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে তারা সমর্থন করেন।

 

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বিদ্যমান শ্রমশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে উচ্চ ব্যয় ও দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনও কমে আসবে।

 

দেশটির উতুসান মালয়েশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের ভেতরে যে শ্রমশক্তি এরই মধ্যে রয়েছে, তাদের কাজে লাগানো গেলে নতুন বিদেশি কর্মী আনতে যে বিপুল নিয়োগ ব্যয় ও দীর্ঘ সময় লাগে, তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ার বাগান, নির্মাণ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ৩ডি খাতে উল্লেখযোগ্য শ্রমিক সংকট রয়েছে। স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে এসব পেশায় কাজ করার আগ্রহ ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, দেশের উৎপাদন ও সেবা খাত সচল রাখতে এসব খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে?

 

তিনি আরও বলেন, জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা পরিচ্ছন্নতা বা শারীরিকভাবে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে এসব খাতে বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়ে গেছে।

 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বৈধভাবে কাজের সুযোগ দিলে সরকার তাদের নিবন্ধন, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকরভাবে করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন এমইএফ সভাপতি।

 

তার ভাষায়, তারা অবৈধভাবে কাজ করার চেয়ে বৈধভাবে কাজ করাই উত্তম। এতে দেশের শ্রম আইন ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইন তাদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে কার্যকর হবে, যেমনটি অন্য কর্মীদের ক্ষেত্রে হয়।

অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ড. ইধাম এমডি রাজাক সতর্ক করে বলেছেন, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হলে তা সবসময় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে নাও আনতে পারে।

 

তার মতে, এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট কিছু খাতে স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি নিবন্ধন, প্রশাসনিক তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ও বাড়বে।

 

তিনি বলেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে অর্থনৈতিক সুবিধার তুলনায় সামাজিক ও আর্থিক ব্যয় বেশি হয়ে যেতে পারে।

 

ড. ইধাম আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে কম মজুরির শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি হলে নিয়োগকর্তারা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ কিংবা স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের পরিবর্তে সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করতে পারেন। এতে উচ্চ মূল্যসংযোজনভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের গতি ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় বৈধ কাজের সুযোগ পাচ্ছেন রোহিঙ্গারা

আপডেট টাইম : 03:57:52 pm, Thursday, 2 July 2026

মালয়েশিয়া সরকার বৈধভাবে কাজের অনুমতি দিলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ৩ডি (নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন) খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে প্রস্তুত দেশটির নিয়োগকর্তারা।

 

মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (এমইএফ) সভাপতি দাতুক ড. সৈয়দ হুসেইন সৈয়দ হুসমান বলেন, শ্রমিক সংকটে থাকা খাতে ইউএনএইচসিআর-নিবন্ধিত শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের সুযোগ দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে তারা সমর্থন করেন।

 

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বিদ্যমান শ্রমশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে উচ্চ ব্যয় ও দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনও কমে আসবে।

 

দেশটির উতুসান মালয়েশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের ভেতরে যে শ্রমশক্তি এরই মধ্যে রয়েছে, তাদের কাজে লাগানো গেলে নতুন বিদেশি কর্মী আনতে যে বিপুল নিয়োগ ব্যয় ও দীর্ঘ সময় লাগে, তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ার বাগান, নির্মাণ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ৩ডি খাতে উল্লেখযোগ্য শ্রমিক সংকট রয়েছে। স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে এসব পেশায় কাজ করার আগ্রহ ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, দেশের উৎপাদন ও সেবা খাত সচল রাখতে এসব খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে?

 

তিনি আরও বলেন, জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা পরিচ্ছন্নতা বা শারীরিকভাবে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে এসব খাতে বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়ে গেছে।

 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বৈধভাবে কাজের সুযোগ দিলে সরকার তাদের নিবন্ধন, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকরভাবে করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন এমইএফ সভাপতি।

 

তার ভাষায়, তারা অবৈধভাবে কাজ করার চেয়ে বৈধভাবে কাজ করাই উত্তম। এতে দেশের শ্রম আইন ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইন তাদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে কার্যকর হবে, যেমনটি অন্য কর্মীদের ক্ষেত্রে হয়।

অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ড. ইধাম এমডি রাজাক সতর্ক করে বলেছেন, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হলে তা সবসময় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে নাও আনতে পারে।

 

তার মতে, এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট কিছু খাতে স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি নিবন্ধন, প্রশাসনিক তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ও বাড়বে।

 

তিনি বলেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে অর্থনৈতিক সুবিধার তুলনায় সামাজিক ও আর্থিক ব্যয় বেশি হয়ে যেতে পারে।

 

ড. ইধাম আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে কম মজুরির শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি হলে নিয়োগকর্তারা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ কিংবা স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের পরিবর্তে সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করতে পারেন। এতে উচ্চ মূল্যসংযোজনভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের গতি ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।