Dhaka , Thursday, 24 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

বেলজিয়ামকে কাঁদিয়ে সেমিতে স্পেন

পর্তুগালের পর বেলজিয়াম, নকআউট পর্বে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে স্পেনের ত্রাতা মিকেল মেরিনো। বদলি হিসেবে মাঠে নামার এক মিনিটের মধ্যেই গোল করে বেলজিয়ামের প্রতিরোধ ভেঙেছেন এই মিডফিল্ডার। তার শেষ মুহূর্তের গোলেই বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন।

 

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে স্পেনের অন্য গোলটি করেন ফাবিয়ান রুইজ। বেলজিয়ামের হয়ে সমতা ফিরিয়েছিলেন শার্ল দে কেতেলারে। শেষ চারের লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দ

 

শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষেও যোগ করা সময়ে স্পেনের জয়সূচক গোলটি করেছিলেন মেরিনো। বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাকে ৮৭ মিনিটে নামান দে লা ফুয়েন্তে। এর এক মিনিট পরই আবারও বড় মঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি।

 

পাউ কুবারসির দূরপাল্লার শট ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক সেন্নে ল্যামেন্স। সামনে পড়া বল দ্রুত জালে পাঠিয়ে দেন মেরিনো। গোলের পর স্পেনের বেঞ্চ থেকে সবাই ছুটে আসেন তার দিকে। অন্যদিকে মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ল্যামেন্সকে।

 

ম্যাচের আগেই ধাক্কা খেয়েছিল বেলজিয়াম। অনুশীলনের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি অনুভব করায় একাদশ থেকে ছিটকে যান ইউরি তিলেমানস। তার জায়গায় শুরু করেন হান্স ভানাকেন।

 

শুরু থেকে বলের দখল নিয়ে খেললেও বেলজিয়ামের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে সময় লেগেছে স্পেনের। লামিন ইয়ামালকে ঘিরেই অধিকাংশ আক্রমণ তৈরি করছিল তারা। ডান প্রান্ত থেকে তার ভেতরে ঢুকে খেলা বেলজিয়ামের ম্যাক্সিম ডি কাইপার ও জেরেমি দকুকে ব্যস্ত রাখে।

 

৩০ মিনিটে সেই প্রান্ত থেকেই এগিয়ে যায় স্পেন। ইয়ামালের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে নিচু ক্রস পাঠান পেদ্রো পোরো। দানি ওলমোর প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। তবে বল পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। ফিরতি বল জালে পাঠান পেদ্রির জায়গায় একাদশে আসা ফাবিয়ান রুইজ।

 

গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ইয়ামালের ফ্রি কিক ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে আচমকাই ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম।

 

৪১ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনার পাস থেকে ডান প্রান্তে বল পান তিমোথি কাস্তানিয়ে। তার নিখুঁত ক্রসে কুবারসিকে পেছনে ফেলে হেডে বল জালে পাঠান দে কেতেলারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর কোয়ার্টার ফাইনালেও গোল পেলেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড।

 

এই গোলেই বিশ্বকাপে স্পেনের দীর্ঘ অক্ষত রক্ষণের অবসান ঘটে। আগের পাঁচ ম্যাচে একটিও গোল খায়নি দে লা ফুয়েন্তের দল। দে কেতেলারের হেডই এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো উনাই সিমনের জাল খুঁজে পায়।

 

বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। কুবারসির লম্বা পাস থেকে কোর্তোয়ার সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন ইয়ামাল। বেলজিয়াম গোলরক্ষক তার শট ঠেকালেও পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে।

 

অন্য প্রান্তে ডি ব্রুইনা ও দকুর সমন্বয়ে সুযোগ তৈরি করেছিল বেলজিয়াম। দকুর পাস থেকে ডি কাইপারের জোরালো শট পাশের জালে লাগে। এরপর পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে নামিয়ে মাঝমাঠ ও আক্রমণে পরিবর্তন আনেন স্পেন কোচ। বেলজিয়ামও রোমেলু লুকাকু, অ্যাক্সেল ভিটসেল ও জোয়াকিন সেইসকে মাঠে পাঠায়।

 

স্পেনের একের পর এক আক্রমণ সামলে বেলজিয়ামকে ম্যাচে রেখেছিলেন কোর্তোয়া। ইয়ামাল ও মিকেল ওইয়ারসাবালের দুটি প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। কিন্তু ৭১ মিনিটে ঊরুর চোট নিয়ে চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হয় বেলজিয়ামের অধিনায়ককে। তার জায়গায় নামেন ল্যামেন্স।

 

ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনাই তখন বেশি মনে হচ্ছিল। কিন্তু দে লা ফুয়েন্তের বদলির সিদ্ধান্ত আবারও পাল্টে দেয় ম্যাচ। ওলমোর জায়গায় নেমেই কোর্তোয়ার বদলি ল্যামেন্সের ভুল কাজে লাগান মেরিনো।

 

সাত মিনিটের যোগ করা সময়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেছিল বেলজিয়াম। তবে লুকাকুকে ঘিরে তাদের সরাসরি আক্রমণগুলো সামলে নেয় স্পেনের রক্ষণ। শেষ পর্যন্ত মেরিনোর গোলেই ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় স্পেন।

 

সেমিফাইনালে তাদের সামনে ফ্রান্স। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে আগেই শেষ চার নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। ইউরো ২০২৪-এর পর এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হবেন এমবাপে ও ইয়ামালরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

বেলজিয়ামকে কাঁদিয়ে সেমিতে স্পেন

আপডেট টাইম : 10:32:03 am, Saturday, 11 July 2026

পর্তুগালের পর বেলজিয়াম, নকআউট পর্বে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে স্পেনের ত্রাতা মিকেল মেরিনো। বদলি হিসেবে মাঠে নামার এক মিনিটের মধ্যেই গোল করে বেলজিয়ামের প্রতিরোধ ভেঙেছেন এই মিডফিল্ডার। তার শেষ মুহূর্তের গোলেই বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন।

 

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে স্পেনের অন্য গোলটি করেন ফাবিয়ান রুইজ। বেলজিয়ামের হয়ে সমতা ফিরিয়েছিলেন শার্ল দে কেতেলারে। শেষ চারের লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দ

 

শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষেও যোগ করা সময়ে স্পেনের জয়সূচক গোলটি করেছিলেন মেরিনো। বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাকে ৮৭ মিনিটে নামান দে লা ফুয়েন্তে। এর এক মিনিট পরই আবারও বড় মঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি।

 

পাউ কুবারসির দূরপাল্লার শট ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক সেন্নে ল্যামেন্স। সামনে পড়া বল দ্রুত জালে পাঠিয়ে দেন মেরিনো। গোলের পর স্পেনের বেঞ্চ থেকে সবাই ছুটে আসেন তার দিকে। অন্যদিকে মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ল্যামেন্সকে।

 

ম্যাচের আগেই ধাক্কা খেয়েছিল বেলজিয়াম। অনুশীলনের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি অনুভব করায় একাদশ থেকে ছিটকে যান ইউরি তিলেমানস। তার জায়গায় শুরু করেন হান্স ভানাকেন।

 

শুরু থেকে বলের দখল নিয়ে খেললেও বেলজিয়ামের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে সময় লেগেছে স্পেনের। লামিন ইয়ামালকে ঘিরেই অধিকাংশ আক্রমণ তৈরি করছিল তারা। ডান প্রান্ত থেকে তার ভেতরে ঢুকে খেলা বেলজিয়ামের ম্যাক্সিম ডি কাইপার ও জেরেমি দকুকে ব্যস্ত রাখে।

 

৩০ মিনিটে সেই প্রান্ত থেকেই এগিয়ে যায় স্পেন। ইয়ামালের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে নিচু ক্রস পাঠান পেদ্রো পোরো। দানি ওলমোর প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। তবে বল পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। ফিরতি বল জালে পাঠান পেদ্রির জায়গায় একাদশে আসা ফাবিয়ান রুইজ।

 

গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ইয়ামালের ফ্রি কিক ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে আচমকাই ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম।

 

৪১ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনার পাস থেকে ডান প্রান্তে বল পান তিমোথি কাস্তানিয়ে। তার নিখুঁত ক্রসে কুবারসিকে পেছনে ফেলে হেডে বল জালে পাঠান দে কেতেলারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর কোয়ার্টার ফাইনালেও গোল পেলেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড।

 

এই গোলেই বিশ্বকাপে স্পেনের দীর্ঘ অক্ষত রক্ষণের অবসান ঘটে। আগের পাঁচ ম্যাচে একটিও গোল খায়নি দে লা ফুয়েন্তের দল। দে কেতেলারের হেডই এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো উনাই সিমনের জাল খুঁজে পায়।

 

বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। কুবারসির লম্বা পাস থেকে কোর্তোয়ার সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন ইয়ামাল। বেলজিয়াম গোলরক্ষক তার শট ঠেকালেও পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে।

 

অন্য প্রান্তে ডি ব্রুইনা ও দকুর সমন্বয়ে সুযোগ তৈরি করেছিল বেলজিয়াম। দকুর পাস থেকে ডি কাইপারের জোরালো শট পাশের জালে লাগে। এরপর পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে নামিয়ে মাঝমাঠ ও আক্রমণে পরিবর্তন আনেন স্পেন কোচ। বেলজিয়ামও রোমেলু লুকাকু, অ্যাক্সেল ভিটসেল ও জোয়াকিন সেইসকে মাঠে পাঠায়।

 

স্পেনের একের পর এক আক্রমণ সামলে বেলজিয়ামকে ম্যাচে রেখেছিলেন কোর্তোয়া। ইয়ামাল ও মিকেল ওইয়ারসাবালের দুটি প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। কিন্তু ৭১ মিনিটে ঊরুর চোট নিয়ে চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হয় বেলজিয়ামের অধিনায়ককে। তার জায়গায় নামেন ল্যামেন্স।

 

ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনাই তখন বেশি মনে হচ্ছিল। কিন্তু দে লা ফুয়েন্তের বদলির সিদ্ধান্ত আবারও পাল্টে দেয় ম্যাচ। ওলমোর জায়গায় নেমেই কোর্তোয়ার বদলি ল্যামেন্সের ভুল কাজে লাগান মেরিনো।

 

সাত মিনিটের যোগ করা সময়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেছিল বেলজিয়াম। তবে লুকাকুকে ঘিরে তাদের সরাসরি আক্রমণগুলো সামলে নেয় স্পেনের রক্ষণ। শেষ পর্যন্ত মেরিনোর গোলেই ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় স্পেন।

 

সেমিফাইনালে তাদের সামনে ফ্রান্স। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে আগেই শেষ চার নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। ইউরো ২০২৪-এর পর এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হবেন এমবাপে ও ইয়ামালরা।