Dhaka , Wednesday, 23 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে পরপর দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

 

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। বিরতির পর ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে শেষদিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৮৫তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে আসে জয়সূচক গোল।

 

এই জয়ে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঝমাঠে শারীরিক লড়াই ও ঘন ঘন ফাউলের কারণে প্রথমার্ধে আক্রমণভাগে খুব বেশি সুযোগ তৈরি হয়নি। বল দখলের লড়াইয়ে দুই দলই সমান তালে লড়লেও গোলমুখে কার্যকর আক্রমণ ছিল সীমিত।

 

২০তম মিনিটের দিকে ইংল্যান্ড প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়ে তোলে। রিস জেমসের ক্রস থেকে সুযোগ তৈরি হলেও তা সহজেই নিয়ন্ত্রণে নেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অন্যদিকে কর্নার ও ফ্রি-কিক পেলেও প্রথমার্ধে সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

 

বিরতির পর ম্যাচের গতি বাড়ে। ৫৫তম মিনিটে একটি লং বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নেয় ইংল্যান্ড। মরগান রজার্সের ক্রস থেকে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন।

 

গোল হজমের পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ চালালেও জর্ডান পিকফোর্ড কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখেন। বিশেষ করে নিকোলাস গনসালেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক।

 

তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার চাপ সামলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ৮৫তম মিনিটে দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

 

ম্যাচে দুটি গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। তাঁর দুটি অ্যাসিস্টের সুবাদে টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করার অনন্য ধারাবাহিকতা আরও দীর্ঘ হয়।

 

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। নাটকীয় এই জয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও জিইয়ে রাখল স্কালোনির দল।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

ফরাসি আভিজাত্যের রাজমুকুট ও পাথরে খোদাই করা সুরের প্রাসাদ

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আপডেট টাইম : 03:18:03 am, Thursday, 16 July 2026

ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে পরপর দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

 

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। বিরতির পর ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে শেষদিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৮৫তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে আসে জয়সূচক গোল।

 

এই জয়ে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঝমাঠে শারীরিক লড়াই ও ঘন ঘন ফাউলের কারণে প্রথমার্ধে আক্রমণভাগে খুব বেশি সুযোগ তৈরি হয়নি। বল দখলের লড়াইয়ে দুই দলই সমান তালে লড়লেও গোলমুখে কার্যকর আক্রমণ ছিল সীমিত।

 

২০তম মিনিটের দিকে ইংল্যান্ড প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়ে তোলে। রিস জেমসের ক্রস থেকে সুযোগ তৈরি হলেও তা সহজেই নিয়ন্ত্রণে নেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অন্যদিকে কর্নার ও ফ্রি-কিক পেলেও প্রথমার্ধে সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

 

বিরতির পর ম্যাচের গতি বাড়ে। ৫৫তম মিনিটে একটি লং বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নেয় ইংল্যান্ড। মরগান রজার্সের ক্রস থেকে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন।

 

গোল হজমের পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ চালালেও জর্ডান পিকফোর্ড কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখেন। বিশেষ করে নিকোলাস গনসালেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক।

 

তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার চাপ সামলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ৮৫তম মিনিটে দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

 

ম্যাচে দুটি গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। তাঁর দুটি অ্যাসিস্টের সুবাদে টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করার অনন্য ধারাবাহিকতা আরও দীর্ঘ হয়।

 

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। নাটকীয় এই জয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও জিইয়ে রাখল স্কালোনির দল।