Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

স্পেনে অভিবাসী প্রবেশ ৬০ হাজার ছাড়াল, প্রাণ গেল ৪১ জনের

মাত্র একদিনেই রেকর্ড অভিবাসী প্রবেশে করল সমুদ্রবেষ্টিত স্পেনের ভূখণ্ড সেউতায়। এই সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। সমুদ্র সাঁতরে সেউতায় প্রবেশের সময় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪১ অভিবাসী। মরদেহের পাশাপাশি ভেসে আসা জুতা, পোশাক ও অন্যান্য আসবাপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে উপকূলে।

 

নজিরবিহীন অভিবাসীর অনুপ্রবেশে মরক্কো-স্পেন সীমান্তে চরম সংকট বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’দেশই কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তবে আফ্রিকার ভূখণ্ড হয়ে সমুদ্র ও স্থলপথে এত বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনাকে ‘স্পেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

 

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, সংকটজনক এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) জরুরি সেউতা সফর শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ মানব পাচারকারী চক্রকে দায়ী করে বলেন, ‘চোরাচালানকারীরা তরুণ-তরুণীদের ভুল বুঝিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’

 

সেউতার প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস সাংবাদিকদের জানান, গত এক দিনে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা সেউটার মোট জনসংখ্যার (প্রায় ৮৫ হাজার) ৭০ শতাংশের সমান। পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ অসহনীয়’ উল্লেখ করে তিনি দ্রুত কেন্দ্রীয় সহায়তা দাবি করেছেন।

 

এদিকে সিভিল গার্ডের তথ্যমতে, সমুদ্র পার হতে গিয়ে ও সীমান্ত বেড়ার তারাজাল সৈকতে পদদলিত হয়ে অন্তত ৪১ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের পাশাপাশি ভেসে আসা বয়া, জুতো ও পোশাক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে উপকূলে

ইউরোপজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

 

সীমান্তের মরক্কো অংশ ও সেউতার প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অভিবাসীদের তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়েছে মরক্কো পুলিশকে। এতে সীমান্তে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিবাসন প্রত্যাশীরা। ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বিশৃঙ্খ হয়ে ওঠে।

 

সীমান্তের এই পরিস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় জোটটির প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে অবৈধ সীমান্ত পারাপার অবিলম্বে বন্ধের তাগাদা দিয়েছেন।

 

সংকটের প্রভাবে ইতালি সরকারের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাতে স্পেনের সঙ্গে ‘শেনগেন উন্মুক্ত সীমান্ত চুক্তি’ স্থগিত করার হুমকিও দিয়েছেন। ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে কড়া নজরদারির ঘোষণা দিয়েছে।

 

হঠাৎ এই অভিবাসন ঢলের কারণ কী?

 

স্পেন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে বলা হয়েছিল যে, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে পুশব্যাক বা নির্বাসিত করা যাবে না। পাচারকারী চক্র এই আইনি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দাবানলের মতো ছড়িয়ে দিলে হাজার হাজার অভিবাসী সীমান্তা অতিক্রম করতে উৎসাহিত হন।

 

তবে বিরোধী দলগুলো স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজের উদার অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করে একে দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

 

বর্তমানে মরক্কোর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং সেউতা ও সংলগ্ন অপর স্প্যানিশ শহর মেলিলার সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও সমুদ্র সাঁতরে ও ছোট নৌকায় এখনো শত শত অভিবাসীর আসা অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনে অভিবাসী প্রবেশ ৬০ হাজার ছাড়াল, প্রাণ গেল ৪১ জনের

আপডেট টাইম : 09:40:39 pm, Friday, 31 July 2026

মাত্র একদিনেই রেকর্ড অভিবাসী প্রবেশে করল সমুদ্রবেষ্টিত স্পেনের ভূখণ্ড সেউতায়। এই সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। সমুদ্র সাঁতরে সেউতায় প্রবেশের সময় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪১ অভিবাসী। মরদেহের পাশাপাশি ভেসে আসা জুতা, পোশাক ও অন্যান্য আসবাপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে উপকূলে।

 

নজিরবিহীন অভিবাসীর অনুপ্রবেশে মরক্কো-স্পেন সীমান্তে চরম সংকট বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’দেশই কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তবে আফ্রিকার ভূখণ্ড হয়ে সমুদ্র ও স্থলপথে এত বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনাকে ‘স্পেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

 

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, সংকটজনক এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) জরুরি সেউতা সফর শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ মানব পাচারকারী চক্রকে দায়ী করে বলেন, ‘চোরাচালানকারীরা তরুণ-তরুণীদের ভুল বুঝিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’

 

সেউতার প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস সাংবাদিকদের জানান, গত এক দিনে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা সেউটার মোট জনসংখ্যার (প্রায় ৮৫ হাজার) ৭০ শতাংশের সমান। পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ অসহনীয়’ উল্লেখ করে তিনি দ্রুত কেন্দ্রীয় সহায়তা দাবি করেছেন।

 

এদিকে সিভিল গার্ডের তথ্যমতে, সমুদ্র পার হতে গিয়ে ও সীমান্ত বেড়ার তারাজাল সৈকতে পদদলিত হয়ে অন্তত ৪১ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের পাশাপাশি ভেসে আসা বয়া, জুতো ও পোশাক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে উপকূলে

ইউরোপজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

 

সীমান্তের মরক্কো অংশ ও সেউতার প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অভিবাসীদের তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়েছে মরক্কো পুলিশকে। এতে সীমান্তে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিবাসন প্রত্যাশীরা। ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বিশৃঙ্খ হয়ে ওঠে।

 

সীমান্তের এই পরিস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় জোটটির প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে অবৈধ সীমান্ত পারাপার অবিলম্বে বন্ধের তাগাদা দিয়েছেন।

 

সংকটের প্রভাবে ইতালি সরকারের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাতে স্পেনের সঙ্গে ‘শেনগেন উন্মুক্ত সীমান্ত চুক্তি’ স্থগিত করার হুমকিও দিয়েছেন। ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে কড়া নজরদারির ঘোষণা দিয়েছে।

 

হঠাৎ এই অভিবাসন ঢলের কারণ কী?

 

স্পেন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে বলা হয়েছিল যে, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে পুশব্যাক বা নির্বাসিত করা যাবে না। পাচারকারী চক্র এই আইনি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দাবানলের মতো ছড়িয়ে দিলে হাজার হাজার অভিবাসী সীমান্তা অতিক্রম করতে উৎসাহিত হন।

 

তবে বিরোধী দলগুলো স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজের উদার অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করে একে দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

 

বর্তমানে মরক্কোর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং সেউতা ও সংলগ্ন অপর স্প্যানিশ শহর মেলিলার সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও সমুদ্র সাঁতরে ও ছোট নৌকায় এখনো শত শত অভিবাসীর আসা অব্যাহত রয়েছে।