কুয়েতের জিলিব আল-শুয়েখ এলাকায় অপরাধ দমন, অবৈধ কাজকর্ম বন্ধ এবং এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সরকারি একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে ব্যাপক গ্রেফতার ও উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
অভিযানে রেসিডেন্সি (আকামা) ও শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী এবং বিভিন্ন অপরাধের পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ২৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত ৩৬ জন শিশু ও তাদের মায়েদের আটক করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে হস্তান্তর করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযানের অংশ হিসেবে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা আবাসন থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় প্রায় ১ হাজার ২০০টি অবৈধ আবাসন ইউনিটের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সংলগ্ন ফারওয়ানিয়া এলাকায় বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশ চাপ হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ১ হাজার ৪৩২টি ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে।
অভিযানকালে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৭৮৪ জনকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় এবং আশঙ্কাজনক ৬১ জনকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পাশাপাশি অবৈধ প্রবাসী শ্রমিকদের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ১১০ জনকে নিজ দেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ডিপোর্টেশন সেন্টারে (নির্বাসন কেন্দ্র) পাঠায় কর্তৃপক্ষ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেবল জিলিব আল-শুয়েখ নয়—অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ড বহাল থাকা কুয়েতের অন্যান্য এলাকাগুলোতেও একই ধারায় কঠোর আইনশৃঙ্খলা অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুয়েত প্রতিনিধি 















