Dhaka , Sunday, 27 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’
কুয়েতের শ্রমবাজারে সম্ভাবনার হাতছানি

দক্ষ জনশক্তির অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন বাংলাদেশিরা

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম তেলসমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ কুয়েত। সুউচ্চ আধুনিক ভবন, সুপ্রশস্ত রাজপথ এবং তেলনির্ভর সমৃদ্ধ অর্থনীতির জন্য দেশটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ছোট এই দেশটিতে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী বসবাস করেন। বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল কুয়েতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদেরও রয়েছে দীর্ঘদিনের উপস্থিতি।

 

কুয়েতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদাও বাড়ছে। নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, ড্রাইভিং, আতিথেয়তা ও বিভিন্ন কারিগরি পেশায় বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের ঘাটতির কারণে সেই সুযোগের বড় অংশ কাজে লাগাতে পারছেন না বাংলাদেশি কর্মীরা।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অনেক কর্মী প্রয়োজনীয় কাজের দক্ষতা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। ফলে উন্নত ও কারিগরি পেশায় ভারত, নেপাল, মিসর কিংবা ফিলিপাইনের দক্ষ কর্মীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পেলেও বাংলাদেশিরা অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প বেতনের ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সীমাবদ্ধ থাকছেন।

 

দালালের দৌরাত্ম্যে বাড়ছে ভোগান্তি

 

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া, ভিসার প্রকৃতি ও শর্ত সম্পর্কে সঠিক তথ্য না দেওয়া এবং কর্মীদের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক প্রবাসী কুয়েতে গিয়ে প্রত্যাশিত কাজ বা বেতন না পেয়ে বিপাকে পড়েন।

 

কখনো ভুয়া বা তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’র ফাঁদে পড়ে কম বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। আবার বৈধ কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে অনেকে আইনি জটিলতায়ও পড়েন। এসব ঝুঁকি এড়াতে বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসার ধরন, নিয়োগকর্তা, চাকরির শর্ত ও বেতন সম্পর্কে সঠিকভাবে যাচাই করা এবং চুক্তিপত্র বুঝে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা এবং দেশের প্রবাস আয়ের ওপরও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

দক্ষ কর্মীর হার বাড়ছে না

 

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের চিত্রেও দক্ষতার ঘাটতি স্পষ্ট। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন কর্মী বিদেশে গেলেও তাদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ পেশাজীবী এবং ২২ শতাংশ দক্ষ কর্মী ছিলেন। বাকি ৭৪ শতাংশ ছিলেন স্বল্প ও অদক্ষ কর্মী।

 

এর আগে ২০২৪ সালে দক্ষ কর্মীর হার ছিল ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ২৪ শতাংশ, ২০২২ সালে ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ২১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও দক্ষ কর্মীর অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে না।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা অন্যতম কারণ। পড়াশোনা অনেকাংশে সনদনির্ভর হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বাস্তবমুখী ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

কাজ শিখে আসার পরামর্শ দূতাবাসের

 

কুয়েতে কাজের জন্য আসতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের আগে থেকেই কোনো না কোনো কাজের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন।

 

তিনি বলেন, কুয়েতে আসার আগে যেকোনো একটি কাজ শিখে এলে ভালো সুযোগ পাওয়া যায় এবং তুলনামূলক ভালো বেতনও পাওয়া সম্ভব। যারা নতুন করে কুয়েতে আসতে চান, তাদের অবশ্যই কাজ শিখে আসা উচিত। একই সঙ্গে দালালের খপ্পরে না পড়ে ভিসা ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

 

কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার দাবি

 

কুয়েতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা আহাদ আম্বিয়া।

 

তিনি বলেন, নতুন নতুন শ্রমবাজারের দ্বার উন্মুক্ত করতে হলে শুধু কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর নির্ভর করলে হবে না; মানসম্মত ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। নতুন সরকারকে বাস্তব অর্থে কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে কঠোর নজরদারি, বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশে মানসম্মত কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন এবং দালালচক্র নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে কুয়েতসহ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও বেশি দক্ষ ও ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের জীবনমান এবং দেশের প্রবাস আয়—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

কুয়েতের শ্রমবাজারে সম্ভাবনার হাতছানি

দক্ষ জনশক্তির অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন বাংলাদেশিরা

আপডেট টাইম : 12:53:58 pm, Saturday, 26 September 2026

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম তেলসমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ কুয়েত। সুউচ্চ আধুনিক ভবন, সুপ্রশস্ত রাজপথ এবং তেলনির্ভর সমৃদ্ধ অর্থনীতির জন্য দেশটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ছোট এই দেশটিতে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী বসবাস করেন। বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল কুয়েতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদেরও রয়েছে দীর্ঘদিনের উপস্থিতি।

 

কুয়েতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদাও বাড়ছে। নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, ড্রাইভিং, আতিথেয়তা ও বিভিন্ন কারিগরি পেশায় বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের ঘাটতির কারণে সেই সুযোগের বড় অংশ কাজে লাগাতে পারছেন না বাংলাদেশি কর্মীরা।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অনেক কর্মী প্রয়োজনীয় কাজের দক্ষতা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। ফলে উন্নত ও কারিগরি পেশায় ভারত, নেপাল, মিসর কিংবা ফিলিপাইনের দক্ষ কর্মীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পেলেও বাংলাদেশিরা অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প বেতনের ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সীমাবদ্ধ থাকছেন।

 

দালালের দৌরাত্ম্যে বাড়ছে ভোগান্তি

 

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া, ভিসার প্রকৃতি ও শর্ত সম্পর্কে সঠিক তথ্য না দেওয়া এবং কর্মীদের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক প্রবাসী কুয়েতে গিয়ে প্রত্যাশিত কাজ বা বেতন না পেয়ে বিপাকে পড়েন।

 

কখনো ভুয়া বা তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’র ফাঁদে পড়ে কম বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। আবার বৈধ কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে অনেকে আইনি জটিলতায়ও পড়েন। এসব ঝুঁকি এড়াতে বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসার ধরন, নিয়োগকর্তা, চাকরির শর্ত ও বেতন সম্পর্কে সঠিকভাবে যাচাই করা এবং চুক্তিপত্র বুঝে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা এবং দেশের প্রবাস আয়ের ওপরও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

দক্ষ কর্মীর হার বাড়ছে না

 

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের চিত্রেও দক্ষতার ঘাটতি স্পষ্ট। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন কর্মী বিদেশে গেলেও তাদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ পেশাজীবী এবং ২২ শতাংশ দক্ষ কর্মী ছিলেন। বাকি ৭৪ শতাংশ ছিলেন স্বল্প ও অদক্ষ কর্মী।

 

এর আগে ২০২৪ সালে দক্ষ কর্মীর হার ছিল ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ২৪ শতাংশ, ২০২২ সালে ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ২১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও দক্ষ কর্মীর অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে না।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা অন্যতম কারণ। পড়াশোনা অনেকাংশে সনদনির্ভর হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বাস্তবমুখী ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

কাজ শিখে আসার পরামর্শ দূতাবাসের

 

কুয়েতে কাজের জন্য আসতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের আগে থেকেই কোনো না কোনো কাজের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন।

 

তিনি বলেন, কুয়েতে আসার আগে যেকোনো একটি কাজ শিখে এলে ভালো সুযোগ পাওয়া যায় এবং তুলনামূলক ভালো বেতনও পাওয়া সম্ভব। যারা নতুন করে কুয়েতে আসতে চান, তাদের অবশ্যই কাজ শিখে আসা উচিত। একই সঙ্গে দালালের খপ্পরে না পড়ে ভিসা ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

 

কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার দাবি

 

কুয়েতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা আহাদ আম্বিয়া।

 

তিনি বলেন, নতুন নতুন শ্রমবাজারের দ্বার উন্মুক্ত করতে হলে শুধু কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর নির্ভর করলে হবে না; মানসম্মত ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। নতুন সরকারকে বাস্তব অর্থে কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে কঠোর নজরদারি, বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশে মানসম্মত কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন এবং দালালচক্র নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে কুয়েতসহ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও বেশি দক্ষ ও ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের জীবনমান এবং দেশের প্রবাস আয়—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।