Dhaka , Tuesday, 20 October 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

অবৈধপথে বাংলাদেশিদের ইউরোপযাত্রা ঠেকাতে তৎপর গ্রিস-ইইউ

ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চাইছে গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বিশেষ করে লিবিয়া ও মিশর হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা বন্ধে ঢাকা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় এথেন্স।

 

সম্প্রতি গ্রিক সংবাদমাধ্যম কাথিমেরিনির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিনে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে এক হাজারের বেশি অভিবাসী পৌঁছেছেন। তাদের অনেকে দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের ইয়ারাপেত্রা এলাকায় অবতরণ করেন। এ ঘটনায় উত্তর আফ্রিকা থেকে ক্রিটে আসার সমুদ্রপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত গ্রিসে অভিবাসীদের মোট আগমন প্রায় ৬২ হাজার থেকে কমে ৪২ হাজারে নেমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে আগমন কমলেও লিবিয়া থেকে ক্রিটে পৌঁছানোর রুটটি এখনো গ্রিসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। লিবিয়ায় পাঁচ লাখের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশি নাগরিকদের উত্তর আফ্রিকায় যাওয়ার যাত্রাপথ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার সহযোগিতা চাইছে গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে মিশরের কায়রো এবং লিবিয়ার বেনগাজি ও ত্রিপোলিগামী ফ্লাইট ব্যবহার করে যাতায়াতের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষের।

 

এছাড়া অভিবাসীদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চার্টার ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়েও বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে সমন্বয় চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আশ্রয়প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সম্ভাব্য ব্যবস্থার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপের বাস্তবায়ন, পরিধি কিংবা কাদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

 

উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের আগমনের কারণে ক্রিট দ্বীপটি গ্রিসে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। গ্রিক কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের একটি দিক হলো, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় সমুদ্রপথে যাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়মিত প্রবেশ ঠেকানোর প্রচেষ্টা জটিল হচ্ছে।

 

প্রতিবেদনে সুদানের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা নাগরিকদের মতো সংঘাতপীড়িত মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের যাত্রাপথের পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। গ্রিক কর্তৃপক্ষের বিবেচনায়, কিছু বাংলাদেশি নাগরিক আকাশপথে লিবিয়ায় পৌঁছে সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

 

এ পরিস্থিতিতে অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় বাংলাদেশ, উপসাগরীয় দেশ ও উত্তর আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চায় গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

অবৈধপথে বাংলাদেশিদের ইউরোপযাত্রা ঠেকাতে তৎপর গ্রিস-ইইউ

আপডেট টাইম : 10:38:26 pm, Sunday, 18 October 2026

ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চাইছে গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বিশেষ করে লিবিয়া ও মিশর হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা বন্ধে ঢাকা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় এথেন্স।

 

সম্প্রতি গ্রিক সংবাদমাধ্যম কাথিমেরিনির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিনে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে এক হাজারের বেশি অভিবাসী পৌঁছেছেন। তাদের অনেকে দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের ইয়ারাপেত্রা এলাকায় অবতরণ করেন। এ ঘটনায় উত্তর আফ্রিকা থেকে ক্রিটে আসার সমুদ্রপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত গ্রিসে অভিবাসীদের মোট আগমন প্রায় ৬২ হাজার থেকে কমে ৪২ হাজারে নেমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে আগমন কমলেও লিবিয়া থেকে ক্রিটে পৌঁছানোর রুটটি এখনো গ্রিসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। লিবিয়ায় পাঁচ লাখের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশি নাগরিকদের উত্তর আফ্রিকায় যাওয়ার যাত্রাপথ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার সহযোগিতা চাইছে গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে মিশরের কায়রো এবং লিবিয়ার বেনগাজি ও ত্রিপোলিগামী ফ্লাইট ব্যবহার করে যাতায়াতের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষের।

 

এছাড়া অভিবাসীদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চার্টার ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়েও বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে সমন্বয় চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আশ্রয়প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সম্ভাব্য ব্যবস্থার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপের বাস্তবায়ন, পরিধি কিংবা কাদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

 

উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের আগমনের কারণে ক্রিট দ্বীপটি গ্রিসে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। গ্রিক কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের একটি দিক হলো, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় সমুদ্রপথে যাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়মিত প্রবেশ ঠেকানোর প্রচেষ্টা জটিল হচ্ছে।

 

প্রতিবেদনে সুদানের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা নাগরিকদের মতো সংঘাতপীড়িত মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের যাত্রাপথের পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। গ্রিক কর্তৃপক্ষের বিবেচনায়, কিছু বাংলাদেশি নাগরিক আকাশপথে লিবিয়ায় পৌঁছে সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

 

এ পরিস্থিতিতে অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় বাংলাদেশ, উপসাগরীয় দেশ ও উত্তর আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চায় গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।